ধর্ম ও জীবন ৭ নভেম্বর, ২০২০ ০৫:১১

কামরাঙ্গীরচরে 'সামাজিক অবক্ষয় রোধে পারিবারিক ভূমিকা' শীর্ষক মতবিনিময় সভা

শিশু-কিশোরদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে: কামরুল ইসলাম

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন ডিএসসিসির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন। ছবি: আমাদের কাগজ

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন ডিএসসিসির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন। ছবি: আমাদের কাগজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কামরাঙ্গীরচরে 'সামাজিক অবক্ষয় রোধে পারিবারিক ভূমিকা' শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সমাজে মাদক, কিশোর গ্যাং, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।

গত শুক্রবার রাতে কামরাঙ্গীরচরের আলীনগর বাজারে এই সভার আয়োজন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন এবং আলীনগর পঞ্চায়েত কমিটি। 

সভার শুরুতে অনলাইনে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা-২ আসনের সাংসদ কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সমাজে মাদক, কিশোর গ্যাং, ধর্ষণ বন্ধ করতে হলে আগে পরিবারকে সচেতন হতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তানদের ধর্মীয় বা নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। তা হলে সন্তানরা খারাপ পথে যাবে না।

1

কিশোর গ্যাং বিষয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, আপনার সন্তান কার সঙ্গে মিশে, স্মার্টফোন কী কাজে ব্যবহার করে, রাতে কয়টায় বাসায় ফিরে তা পরিবার প্রধানকেই তদারকি করতে হবে। কারণ, পরিবারই একজন সন্তানের প্রধান শিক্ষা কেন্দ্র। বাবা-মা সন্তানদের যে শিক্ষা দিবে, সেভাবেই তারা চলতে বাধ্য হবে। এভাবে প্রত্যেক বাবা-মা সচেতন হলে দেশে অপরাধ কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে না। সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে না।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এক সময় কামরাঙ্গীরচর মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন পুলিশ প্রশাসনের চেষ্টায় তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। তবে তা এখনো সহনীয় পর্যায়ে পৌছায়নি। তাই যেসব পরিবারে মাদক সেবী বা ব্যবসায়ী রয়েছে, সমাজের স্বার্থে তাদের নাম-ঠিকানা থানা-পুলিশকে জানান। এতে করে আপনার পরিবারই মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পাবে। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ আজ স্মার্টফোনের অপব্যবহার করছে। ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে কিশোর গ্যাং বাহিনী তৈরি করছে। কিছুদিন পরপরই তারা নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। ঘটছে খুন বা হত্যার মতো দুর্ঘটনা। অথচ অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের খবর রাখছে না।

2

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কামরাঙ্গীরচরে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বাস। তাদের অধিকাংশই স্থানীয় না। এর মধ্যে একটি অংশ কম টাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এই এলাকায় মাদক ব্যবসা করতে চাইছে। তাই বাসা ভাড়া দেওয়ার আগে ভাড়াটিয়ার ভোটার আইডি কার্ডসহ সব ধরণের তথ্য বাড়ি মালিককে সংগ্রহ করতে হবে। তিনি বলেন, আমি কামরাঙ্গীরচর থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদক এবং কিশোর গ্যাং বন্ধে অনেকটাই সফল হয়েছি। আগের তুলনায় এখন কামরাঙ্গীরচরে মাদকের কারবার অনেক কমেছে। ক্রমান্বয়ে এই মাদক সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাব। এ জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা দরকার।

জাতীয় শ্রমিক লীগের কামরাঙ্গীরচর থানার সাধারণ সম্পাদক মিন্টু শেখের সভাপতিত্বে ডিএসসিসির সংরক্ষিত আসনের (৫৫, ৫৬ ও ৫৭) কাউন্সিলর শেফালী আক্তার, সাংবাদিক মুসা আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।