সোশ্যাল মিডিয়া ১০ নভেম্বর, ২০২০ ০৪:১৭

ভাগ্যিস ঘটনার ভিডিওটা পাওয়া গেছে

আনোয়ার হোসেন ও আনিসুল করিম

আনোয়ার হোসেন ও আনিসুল করিম

ডেস্ক রিপোর্ট

গতকাল সোমবার রাজধানীর আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে মানসিক সমস্যায় ভুগে ভর্তি হয়েছিলেন জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম। কিন্তু হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার সিসি টিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নিন্দার ঝড়। এ নিয়ে আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেজে একটি পোস্ট করেছেন এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন।

তার স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

ভাগ্যিস গতকালের ঘটনার ভিডিওটা পাওয়া গিয়েছিলো। সেখানে একজন বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডার কর্মকর্তা সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিমের ওপর হাসপাতালের কর্মচারী পদধারী কিছু অমানুষের নির্মমতা দেখে সকলে প্রতিবাদীও হয়েছেন। কিন্তু যদি ওই জায়গায় কোন সিসি ক্যামেরা না থাকতো অথবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি কোনভাবে ভিডিওটি সরিয়ে নিতে পারতো, তা হলে আজকের পত্রপত্রিকা/টিভির খবরে রকম একটা গল্পই হয়তো শোনা যেতো-

-----------------------------------------------------------

"ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা নিহত!!

রাজধানীর আদাবরে ডাকাতি করতে গিয়ে জনতার প্রতিরোধের মুখে প্রাণ হারিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক ১২ ঘটিকার সময় আনিসুল করিম নামের পুলিশের এই সিনিয়র এএসপি অস্ত্র বাগিয়ে স্বনামখ্যাত 'মাইন্ড এইড' মানসিক হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টারে ঢুকে পড়েন। তারপর সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারীদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখানে থাকা সমুদয় টাকা লুণ্ঠন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রত্যুৎপন্নমতিত্বে উপস্থিত কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে তার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়

পরে ডাকাতির চেষ্টারত পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুলকে হাসপাতালের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। কিন্তু ঘন্টাদুয়েক পর সেখানে গিয়ে দেখা যায়, আত্মগ্লানিতে সে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। এই বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বলেন, একজন পুলিশ সদস্য কিভাবে হাসপাতালের মতো জায়গায় ডাকাতি করতে যায়, তা আমার বোধগম্য নয়। পুলিশে পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা যে কতটা তলানিতে পৌঁছেছে, এই ঘটনা তা আমাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। প্রসঙ্গে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী মসজিদের ইমাম এক ভিডিও সাক্ষাতকারে বলেন, আমি নিজ চোখে নিহত আনিসুল করিমকে অস্ত্র নিয়ে হাসপাতালে ডাকাতি করতে দেখেছি। পরে তাকে হাসপাতালের কর্মীরা আটক করে, কিন্তু কোন মাইরপিট করে নাই। সে নিজে থেকেই আত্মহত্যা করেছে।"

এই ডাকাতি পরিকল্পনার সাথে নিহত আনিসুল করিম ছাড়া আর কোন পুলিশ জড়িত ছিল কিনা, আর থাকলে তাদেরকে খুঁজে বের করে শীঘ্রই বিচারের আওতায় আনার দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সচেতন যুব পরিষদ। সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশস্ত্র একজন পুলিশ কর্মকর্তার লুণ্ঠন প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীকে অভিনন্দন জানানো হয়। সমাবেশ থেকে বক্তারা সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ডাকাতি করতে এসে নিহত এএসপি আনিসুলের সহযোগীদেরকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেপ্তার না করা হলে সারাদেশে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলা হবে

এক প্রশ্নের জবাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যান জানান, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ডাকাতির চেষ্টা রুখে দিয়েছি। চিন্তা করুন, পুলিশকে আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বেতন দেওয়া হয় চুরিডাকাতি বন্ধ করার জন্য। কিন্তু রক্ষক যদি ভক্ষক হয়ে যায়, তাহলে আমরা কার কাছে যাব!

-----------------------------------------------------------

পুনশ্চ: হতে পারে সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম অনেক মেধাবী ছিলেন। হতে পারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সারির একটি বিষয় থেকে তিনি ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড পজিশন আর বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে সেকেন্ড পজিশন অর্জন করেছিলেন। কিন্তু যত যাই হোক,যেহেতু পেশায় তিনি একজন পুলিশ, অতএব তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলাটা একদমই সঠিক কাজ হয়েছে। কোন ভুল নেই, সব ঠিকাছ। চিল্লায় কন, ঠিক কিনাআআআআ....

লেখক: মো. আনোয়ার হোসেন

এএসপি (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল)

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ

ফেসবুক  পেজ থেকে সংগৃহীত...