জাতীয় ২১ নভেম্বর, ২০২০ ০৩:০৫

চিড়িয়াখানায় স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না দর্শনার্থীরা

ফাহিমা আক্তার সুমি

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর গত ১ নভেম্বর থেকে শর্তসাপেক্ষে খুলে দেয়া হয় রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা। এরপর থেকেই বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি বেঁধে দিলেও তোয়াক্কা করছেন না কেউ।

আ

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশের আগে থার্মোমিটার দিয়ে মাপা হচ্ছে শরীরের তাপমাত্রা। ঢোকার সময় দেয়া হচ্ছে স্যানিটাইজার। দর্শনার্থীরা মাস্ক পরে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করলেও ভিতরে প্রবেশ করেই বেশিরভাগ দর্শনার্থী মাস্ক খুলে ফেলছেন। ভিতরে প্রায় ৫০ জন নিরাপত্তাকর্মী মাস্ক পরার অনুরোধ করলেও তাদের কথা কানে তুলছেন না দর্শনার্থীরা। এছাড়া সামাজিক দূরত্বও মানছেন না কেউ।

আ

মিরপুর-১৩ নম্বর থেকে আসা এক দর্শনার্থী জানান, আজ ছুটির দিন থাকায় বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। মাস্ক না পরার জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশিক্ষণ মুখে মাস্ক পরে থাকলে গরমে অস্বস্তি লাগে। এখানে তো খোলা জায়গা, তাই মুক্ত বাতাস নেবার জন্য মাস্ক খুলে রেখেছি।

শ্যামলি থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী তানিয়া সুলতানা। চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন তার পরিবার নিয়ে। তিনিও মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন পরিবারের সাথে। নিরাপত্তা কর্মীরা মাস্ক পরতে বললে তিনি জানান, তার হাত থেকে মাস্কটি পরে গেছে।

আ

চিড়িয়াখানার কিউরেটর আব্দুল লতীফ বলেন, ’করোনা মহামারির জন্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গত মার্চের ২০ তারিখ থেকে বন্ধ ছিল চিড়িয়াখানা। নভেম্বরের ১ তারিখে শর্তসাপেক্ষে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে আমরা সব ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছি। মাস্ক ছাড়া কেউ আসলে তাদের টিকেট দেওয়া হয় না। সামাজিক দূরত্ব মেনে ভিতরে প্রবেশ করবে এবং ঘুরে দেখবে দর্শনার্থীরা। ভিতরে জটলা যেন না হয় এরজন্যে একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আ

কিউরেটর বলেন, ‘এই স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো প্রতিনিয়ত ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভিতরে বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা কর্মীরা আছে। প্রতি ১৫ মিনিট পরপর মাইকিং করা হচ্ছে। যেন দর্শনার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেন। তবুও অনেক দর্শনার্থী মুখে মাস্ক পরছেন না। মানছেন না সামাজিক দূরত্ব।

আ

আব্দুল লতীফ আরও বলেন, আমাদের পদক্ষেপের কোন কমতি নেই। কিন্তু অপরপক্ষকে (দর্শনার্থী) সচেতন হতে হবে।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রতি মাসের প্রথম রোববার দর্শনার্থীদের জন্য চিড়িয়াখানায় প্রবেশ ফ্রি করে দেয়া হয়েছে।