অর্থ ও বাণিজ্য ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০৩:৪৫

লোকসান মুখে চিংড়ি চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও করোনা সংকটে লোকসানের মুখে মোংলা উপকূলের ১০ হাজার চিংড়ি চাষি। চলতি বছরে দুটি সামুদ্রিক ঝড় আর সম্প্রতি নিম্নচাপ-লঘুচাপের প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাত এবং প্লাবনে এখানকার চিংড়ি চাষিদের মাছ ভেসে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একারণে চিংড়ি রফতানিতে ধস ও বাজার মূল্য কমে যাওয়ায় এ খাতের সঙ্গে জড়িতরা চরম দুরাবস্থার মধ্যে রয়েছেন।

সুন্দরবন উপকূলীয় মোংলাসহ আশপাশের এলাকায় বছরের অধিকাংশ সময়ই বাগদা চিংড়ির চাষ হয়ে থাকে। লবণ আবহাওয়ায় এখানে ধান ও অন্যান্য ফসল ভালো উৎপাদন সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়রা সাধারণত চিংড়ি চাষই জীবিকা নির্বাহ করেন।

স্থানীয় চিংড়ি চাষি রেজি হালদার বলেন, সাম্প্রতিককালের একের পর এক ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস আর করোনা সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। বর্তমান সময়ে তার ঘেরে তেমন একটা মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। সব মাছ ভেসে গেছে।

আব্দুল মালেক মালেক নামের আরেক চিংড়ি চাষি বলেন, ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে তারসহ অধিকাংশ ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এর ওপর আবার রয়েছে করোনার প্রভাব। তিনি ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত।

বছরের শুরুতে সামুদ্রিক ঝড় বুলবুল আর মাঝ পথে এসে আম্পানের আঘাত এবং সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে এখানকার হাজার হাজার ঘের তলিয়ে ভেসে গেছে লাখ লাখ টাকার টাকার চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

মোংলা উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে-এ উপজেলায় ৮ হাজার ৬৬৪ হেক্টর জলাশয়ের মধ্যে ৩১৫ হেক্টর জমিতে ঘেরের মাধ্যমে চিংড়ি চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে ছোট বড় মিলিয়ে সরকারি নিবন্ধিত ঘেরের সংখ্যা ৫ হাজার ৬০১টি। কিন্তু বেসরকারি হিসেবে মোংলাসহ আশপাশে চিংড়ি ঘের ও প্রান্তিক চাষির সংখ্যা প্রায় দশ হাজার ছড়িয়ে যাবে।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘প্রতিবছর এখান থেকে গড়ে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদিত হলেও এবার প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগের কারণে এ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত চিংড়ি চাষিদের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।