জাতীয় ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০৬:১৪

মেয়র হানিফের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রথম মেয়র মোহাম্মদ হানিফের চতুর্দশ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার দিনব্যাপী মিলাদ, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। তারা মেয়র হানিফের স্মৃতিচারণ করে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় আজিমপুর কবরস্থানে মেয়র মোহাম্মদ হানিফের কবরে ফুল দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। সময় মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ স্মৃতি সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন কবরে ফুল দেন।

বেলা ১১টায় এই কবরস্থানে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলে অংশ নেন তারা। দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে মহানাাগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৪৪ সালে এপ্রিল পুরান ঢাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মেয়র হানিফ। পিতা আবদুল আজিজ আর মাতা মুন্নি বেগমের ছোট ছেলে হানিফ। আদর করে সবাই তাকেধনীনামে ডাকতো। শিশু হানিফ ছোটবেলায় মমতাময়ী মাকে হারান। মায়ের মৃত্যুর পর ফুফু আছিয়া খাতুনের কাছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য আর আদর্শে বেড়ে উঠেন মোহাম্মদ হানিফ।

ঢাকার প্রখ্যাত পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাজেদ সরদার ছিলেন ঢাকার শেষ সরদার। মোহাম্মদ হানিফের বহুমুখী প্রতিভা তাকে মুগ্ধ করে। তাই ১৯৬৭ সালে মাজেদ সরদার প্রিয়কন্যা ফাতেমা খাতুনকে মোহাম্মদ হানিফের সাথে বিয়ে দেন। এই দম্পতির একজন পুত্র দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। পুত্র আলহাজ্ব মোহাম্মদ সাঈদ খোকন পিতার আদর্শ ধারণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সান্নিধ্য পাওয়া মোহাম্মদ হানিফ ১৯৯৪ সালে ৩০ শে জানুয়ারি ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ঢাকার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মুক্তাঙ্গনে এক সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

পূর্বে মাথায় বিদ্ধ হওয়া স্পিন্টারের প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে গত ২৮ নভেম্বর ২০০৬, দিবাগত রাতে ৬২ বছর বয়সে ঢাকার এপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মোহাম্মদ হানিফ।