সারাদেশ ৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৮:৩১

ডিসি পার্ক অবৈধভাবে চিরস্থায়ী দখলে নিতে চায় সাবেক সাংসদ কন্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙামাটি ডিসি বাংলো পার্কটি সাবলীজ নিয়ে অবৈধভাবে ব্যবহার করছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাবেক সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনুর মেয়ে নাজনীন আনোয়ার মায়ের রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার্কটিতে গড়ে তুলেছেন মাদক দেহ ব্যবসার নিরাপদ আবাসস্থল বাঁধা থেকে বাঁচতে রাজনৈতিক প্রতিপত্তির আশ্রয় নিয়ে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে করেছেন ৪টি মামলা

রাঙামাটি ডিসি বাংলো পার্কে অবস্থিত পাইরেটস রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই তরুণ-তরুণীরা অবাদ বিচরণ করেন সেখানে সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে তারা হৈ-হুল্লোড় করেন এমনকি তারা সেখানে নিরাপদে মাদক সেবন করেন যার ফলে ডিসির বাসভবন, পাশে অবস্থিত মসজিদ এলাকার সুস্থ পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে

জানা গেছে, রাঙামাটি জেলার জেলা প্রশাসকের বাসভবন সংলগ্ন ডিসি বাংলো পার্কটি অবস্থিত গত ১৮/১২/২০১৭ তে  ১৩টি শর্ত সাপেক্ষে মোহাম্মদ হোসেন, পিতাঃ- আবুল হাসেম, সাং- দেবাশীষ নগর, থানাঃ- কোতোয়ালী, জেলাঃ- রাঙ্গামাটি কে দুই () বছর মেয়াদী বাৎসরিক ভাড়ার বিনিময়ে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা হয়েছিল যদিও ১১ নম্বর শর্ত অনুযায়ী পার্কটি সাবলীজ দেয়া যাবে না কিন্তু ফিরোজা বেগম চিনুর মেয়ে নাজনীন আনোয়ার প্রভাব খাঁটিয়ে তৎকালিন জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নানের নিকট হতে দুই () বছর মেয়াদী বাৎসরিক ভাড়ার বিনিময়ে জনপ্রিয় এই পার্কটি ব্যবহারের অনুমতি আদায় করে নেন এরপর থেকে এককচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে পুরো পার্কে পরিচালনা করা হচ্ছে রমরমা অবৈধ ব্যবসা

পার্কটি ভাড়া নেওয়ার সময় ৮নং শর্তে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা ছিল পার্কটির কোনো রুপ পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে না কিন্তু কর্তপক্ষের লিখিত অনুমতি ব্যতিত প্রথমেই পাইরেটস নামে (জাহাজের আদলে তৈরী) একটি রেস্টুরেন্ট তৈরি করেন যা চুক্তির নং ধারার সরাসরি লঙ্ঘন

এলাকার সাধারণ জনগণ তাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষিপ্ত হয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর ২০১৯ সালেডিসি বাংলো পার্কে অবস্থানরত পাইরেটস রেস্টুরেন্টে মাদকদ্রব্য সেবন, বিক্রয় এবং অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করা প্রসঙ্গেএকটি আবেদন করেন

এরপর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পার্কটিতে অভিযান পরিচালনা করেন সেখান থেকে জনকে মাদকসহ গ্রেফতার করা হয় এর আগে প্রাণঘাতী করোনার কারণে পার্ক বন্ধ থাকলেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নাজনীন তার কর্মচারীদের দিয়ে পার্কের পেছনের গেইটের দুটি তালা ভেঙ্গে ফেলেন সহকারী কমিশনার নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটের মোবাইল কোর্টের অভিযানের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়

চুক্তিপত্র অনুযায়ী ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পার্কের ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে অন্যায় বেআইনিভাবে পার্কটি দখলে রেখে নিষিদ্ধ কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন নাজনীন

প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসী বলেন, পার্ক ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়েছে আরও বছর খানেক আগে কিন্তু তারা অবৈধভাবে নিষিদ্ধ কার্যকলাপ পরিচালনা করেছে এতে আমাদের এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে

এলাকায় এমন অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এলাকাবাসী চুপ কেনো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসন যেখানে কিছু করতে পারছে না সেখানে আমরা সাধারণ জনগণ হিসেবে কি করবো

ডিসি বাংলো পার্ক সংলগ্ন মসজিদের ঈমাম মোঃ রুকনোজ্জামান বলেন, পার্কটিতে ছেলে-মেয়েরা অবাধ মেলামেশা করে এখানে গভীর রাত অবধি মদ-গাঁজা সেবন চলে রাতে গেইট টপকিয়ে পার্কের ভিতরে লোক প্রবেশ করে তারা এখানে সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে গান বাজনা করে যার ফলে এলাকার সার্বিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে

গত মঙ্গলবার ( ডিসেম্বর) রাঙামাটি ডিসি বাংলো পার্ক নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন পাইরেটস রেস্টুরেন্টের নাজনীন আনোয়ার সেখানে তিনি জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের লিখিত অভিযোগ এনেছিলেন

নাজনীন আনোয়ারের এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, আমরা সরকারি কাজ করি সরকারের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের ওপর ন্যাস্ত পার্কের সম্পত্তিটি যেহেতু সরকারের সুতরাং এটার রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বও আমাদের

নাজনীনের আনিত অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, আমি কখনোই উনার নামে মামলা করিনি উনার অবৈধ কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে খোলাসা হয়ে গেছে তাই আমাকে বিব্রত করতে আমি আমার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তিনি চারটি মামলা করেছেন সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে সরাসরি আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে যা আমার জন্য খুবই বিব্রতকর

কোন অন্যায় অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা অপরাধ দমনে বদ্ধ পরিকর জনগণ সরকারের সম্পত্তি রক্ষায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক না কেনো তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না