আইন ও আদালত ২৯ আগস্ট, ২০১৯ ১১:০৭

ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে জাহাজ ভাঙা শিল্প

ডেস্ক রিপোর্ট।। 

দিন দিন দেশীয় শিপ ইয়ার্ডগুলো অপরিকল্পিত কার্যক্রম ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।  অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই  চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের শিপ ইয়ার্ডগুলোতে চলছে পরিত্যক্ত জাহাজ কাটা কাজ। যেখানে নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সঠিক উদ্যোগ । অন্যদিকে দুদকসহ বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে পরেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি । 

দেশে ইস্পাতের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশের জোগান আসে জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে। ২০১০ সালে যেখানে দেড়শ’র বেশি শিপ ইয়ার্ড ছিল এখন তা নেমে এসেছে এক তৃতীয়াংশে। সীতাকুন্ডের উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৮০টির শিপ ইয়ার্ডের অধিকাংশগুলোতেই মানা হচ্ছে না নিয়মনীতি। জাহাজ কেটে সাগরে তেল ফেলে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে সম্প্রতি এসএইচ এন্টারপ্রাইজ ও সাগরিকা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সীতাকুন্ডের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, 'ঘটনাস্থলেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এই দুইটি শিপ ইয়ার্ডকে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার পাশাপাশি পরিবেশগত ছাড়পত্র বা তাদের কারখানার লাইসেন্স আছে কি না অথবা শ্রম আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'

আরেফিন এন্টারপ্রাইজ শিপ ইয়ার্ডে ২০ বছর ধরে অপরিশোধিত তেল পরিবহণ করা প্লাটো পাইনর নামে জাহাজটি তেজস্ক্রীয় পদার্থের শনাক্তে কোনো ধরনের পরীক্ষণ ছাড়াই কেটে ফেলা হয়। এছাড়া হটওয়াটারে ওয়াশ করা ছাড়াই জাহাজটি আনার অভিযোগ রয়েছে। তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার।

আরেফিন এন্টারপ্রাইজ শিপ ইয়ার্ডের ম্যানেজার মো: হাসান উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'ওয়াশ ছাড়া কোনো জাহাজ আনা হয় না। এমনকি, সার্ভেয়ার করে ছাড়পত্র দেয়ার পর আমরা জাহাজ নিয়ে আসি। যদি, সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকত তাহলে তো আমরা জাহাজ কাটার অনুমতি পেতাম না।'

ইয়ার্ডে একটি জাহাজ ভেড়ানোর আগে পরিবেশ, বিস্ফোরক অধিদপ্তরসহ কয়েকটি দপ্তরের ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু, এসব সংস্থাকে ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলে আসছে।

এ বিষয়ে দুদকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মো: হুমায়ুন কবিন বলেন, 'যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং যার অবহেলার কারণে কাজটি হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

সাগরে নিঃসরিত তেল, তেজস্ক্রিয় পদার্থ মাটি, বায়ু ও পানিতে মিশে মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।