কৃষি ১২ জানুয়ারি, ২০২১ ০৪:৪৩

স্কোয়াশ চাষে জালালের সাফল্য

ডেস্ক রিপোর্ট

কুমড়া জাতীয় সবজি স্কোয়াশ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন মাগুরার সদর উপজেলার ছোটফালিয়া গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন। নতুন এ সবজিটি দেখতে অনেকটা লম্বা বাঙ্গির মত। মাত্র ২৩ শতক জমিতে এ সবজি চাষ করে ফলনও ভালো পেয়েছেন।

এছাড়া চলতি মৌসুমে এ ফসল বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ টাকা ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।

কৃষক জালাল উদ্দিন জানান, গত বছর প্রথম গ্রীষ্ম মৌসুমে মিষ্টি কুমড়া জাতীয় এ সবজির চাষ করেছিলেন। কিন্ত তেমন লাভবান হননি। পরে আবার চলতি শীত মৌসুমে চাষ করে ভালো ফলন ভালো পেয়েছেন তিনি।

এই সবজির জীবনকাল প্রায় ৩ মাস। শীত মৌসুমে এ সবজি বপনের ৪০ দিনের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। পোঁকামাকড় থেকে রক্ষা পেতে ক্ষেতে ব্যবহার করতে হয় ফেরোমন ট্রাফ। মাটির রসে যাতে ফুল ও ফল নষ্ট না হয় সে জন্য জমিতে বেড তৈরি করে বেডের উপর পলিথিন দিতে হয়। সেচ ও বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি জমে যাতে ফসলের ক্ষতি না হয় সে জন্য নালা তৈরি করা হয়েছে। এতে করে ক্ষেতে পানি জমে না। সেই সাথে ফসলের পরিচর্যা করতে সুবিধা হয়। ফলনও ভালো হয় বলে জানান তিনি।

জালাল উদ্দিন আরো জানান, ২৩ শতক জমিতে তার গাছ রয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০টি। এই মৌসুমে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। যাবতীয় খরচ বাদে এ ক্ষেত থেকে তিনি প্রায় লক্ষাধিক টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। বর্তমানে প্রতি পিস স্কোয়াশ ২০ থেকে ২৫ টাকা বিক্রি করছেন । এ সবজি চাষে স্থানীয় কৃষি বিভাগ তাকে নানা ভাবে সহোযোগিতা করছে।

মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্কোয়াশ মূলত আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ হয়ে থাকে । আমাদের দেশে সাধারণত দোআঁশ মাটিতে এর ফলন ভালো হয়। স্কোয়াশ ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ ও আয়রনসহ বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরা একটি সবজি। এ সবজি রাতকানা রোগসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। মাগুরাতে কিছু কিছু এলাকায় কৃষকরা এটি চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। যে কারণে অনেক কৃষকই এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু তালহা জানান, চাষবাদের দিক দিয়ে স্কোয়াশ অনেকটাই নতুন ধরনের একটি সবজি। তাই বাজারে এটির চাহিদা ব্যাপক। ছোটফালিয়া গ্রামের জালাল উদ্দিন এ সবজির চাষ করে সফল হয়েছেন। আগামীতে এটির চাষ আরো বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।