নারীমেলা ৮ মার্চ, ২০২০

'মুজিববর্ষে এক লক্ষ নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কাজ করছে সরকার'

নিজস্ব প্রতিবেদক ।। 

বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আওয়ামী লীগের উদ্যোগেই সংবিধানে নারীদের সমঅংশীদারিত্ব ও সংসদে নারী আসন সংরক্ষিত হয়। বর্তমান সরকার নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে। তৃণমূল থেকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে নতুন করে এক লক্ষ নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশু প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।
 
বোরবার (০৮ মার্চ) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে নারী দিবস উপলক্ষে ‘উইমেনস কার্নিভ্যাল’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, কোহিনূর কেমিক্যালসের সহকারী সহ-সভাপতি দিলারা সুলতানা, ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন, পরিবহন সম্পাদক শামস-ঈ-নোমান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিম অর্নি, ও ডাকসুর সদস্য রাইসা নাসের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

নারী দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী এই উইমেনস কার্নিভ্যালে মেয়েদের আন্ত:বিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা, কবিতা আবৃত্তি, ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা, ছেলেদের জন্য রচনা লিখন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে পাঁচটি বিভাগে ১৮ বিজয়ীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। তিন দিনব্যাপী এই কার্নিভ্যাল শুরু হয় গত ৬ মার্চ। 

নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করেন। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কারণে শিক্ষাখাতে ছাত্রদের চেয়ে এখন ছাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃণমূলের নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ‘তথ্য আপা’ প্রকল্প চালু করেছে সরকার। মুজিববর্ষে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৫০ লক্ষ অসহায় ও দুস্থ নারীদের তথ্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্ষমতায়ন করা হবে। নারী উদ্যেক্তা সৃষ্টি করতে প্রায় মন্ত্রণালয় থেকে ২৫ লক্ষ নারীদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছি। মুজিববর্ষে এক লক্ষ নতুন নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে কাজ করছি।

আরও পড়ুন: মোমের আলোয় আঁধার ভাঙার শপথ নিল নারীরা

ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে কখনও একটি জাতি ও দেশ এগুতে পারে না। তবে বর্তমানে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। পুরুষদের চেয়ে এখন নারীরা পিছিয়ে নেই। নারী দিবসের প্রতিপাদ্যকে স্মরণ করে বলতে চাই নারীর সমতায়ন অত্যন্ত জরুরী।’ 

সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সামাজিক সচেতনতা ও সাংষ্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে মৌলবাদী গোষ্ঠীকে প্রতিহত করে নারী স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। লৈঙ্গিক বৈষম্য দূর করে নারী বান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে ডাকসু কাজ করেয যাচ্ছে। এখন প্রয়োজন বাল্যবিবাহ নিরসন, যৌন সহিংসতা রোধ ও ভূমির মালিকানায় নারীর সম অধিকার নিশ্চিত করা। আগামীতে সেই লক্ষ্যে ডাকসু কাজ করে যাবে।’  

আবু সৈয়দ ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ।।