নারীমেলা ৮ মার্চ, ২০২০

ঢাবিতে নারীদের গণিত অলিম্পিয়াড

নিজস্ব প্রতিবেদক ।। 

শিক্ষামন্ত্রী ডা.দিপু মনি বলেছেন, এদেশের নারীরা মেয়েরা এখন সব জায়গায় ভালো করছে। এখন তাদের সুযোগ দেয়া হচ্ছে, তাই তারা তাদের যোগ্যতা প্রমান করতে পারছে।

রোববার (০৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এএফ মুজিবুর রহমান গণিত ভবনে আয়োজিত নারী গণিত অলিম্পিয়াডের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগিতায় এবং নারী গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি ও এএফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চতুর্থবারের মতো এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়।

গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ ও বিজ্ঞান অনুষদের ডীন তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী। এছাড়াও বিভাগের শিক্ষকরা বক্তব্য রাখেন।

দিপু মনি বলেন, নারীকে এগিয়ে দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই, যদি আমরা তাদের অগ্রযাত্রায় বাঁধা না দেই। আমাদের মেয়েদেরকে যদি আমরা আটকিয়ে না রাখি তাহলে তারা বিশ্বজয় করবে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম অনেক অগ্রসর, হিন্দু সমাজে নারীকে দেবী হিসাবে পূজা করা হলেও আমরা ধর্মের নাম দিয়ে নারীকে যতভাবে দমিয়ে রাখা যায় তার প্রচেষ্টা করি।

তিনি বলেন, নারীদের ক্ষেত্র আমরা প্রথমেই ধারণা করি নারীর কর্মক্ষেত্র ঘরের ভিতর। দ্বিতীয়ত নারীর ঘরের ভিতরের কাজগুলোকে কাজ হিসাবে মূল্যয়ন করা হয় না। তৃতীয়ত কৃষি কাজে ৬০ ভাগ নারীর অবদান থাকা সত্তে¡ও কৃষাণী হিসেবে নারীকে বিবেচনা করা হয় না।

সকল ধরণের আন্দোলনে নারীদের বিশেষ ভ‚মিকা ছিলো বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, এমনকি আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও নারীদের বিশাল অবদান ছিল। তারা যোদ্ধাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন, বিশ্রাম দিয়েছেন, চিকিৎসা দিয়েছেন, সেবা দিয়েছেন, নানা ভাবে তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন: করোনায় স্কুল-কলেজ বন্ধের পরিস্থিতি হয়নি: আইইডিসিআর

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নারীরা অনেক বেশি কষ্ট সহিষ্ণু, নারীদের প্রতি যতটা প্রতিকুলতা অতিক্রম করা সম্ভব, পুরুষের প্রতি ততটা সম্ভব নয়। এজন্য পৃথিবীর সবচাইতে কঠিন কাজ (সন্তান ধারণ ও উৎপাদন) এই কাজটি মালিক নারীকেই দিয়েছেন। নারীদের প্রথম যুদ্ধ জয় করতে হয় নারীর চারপাশে সমাজ যে প্রতিরোধ দেয়াল তৈরি করে দেয় সেটা ভেঙে বের হয়ে আসাতে। এটা একবার যে করতে পারে তারপর তাকে আর কেউ আটকিয়ে রাখতে পারে না।

উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান সমাজ পরিবর্তন ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে অগ্রণী ভ‚মিকা পালনের জন্য ছাত্রীদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, সব ধরণের সহিংসতার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সোচ্চার হতে হবে এবং সাহসিকতার সঙ্গে অপশক্তিকে মোকাবেলা করতে হবে। সহিংসতামুক্ত নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নারী অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অলিম্পিয়াড উদ্বোধন করেন। এতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ২৬০জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। 

আবু সৈয়দ ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক