আইন ও আদালত ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:৪৬

'নিহত' আবু সাঈদ ফিরে এসেছে!

ডেস্ক রিপোর্ট।। 

পুলিশের অভিযোগপত্র অনুযায়ী রাজধানীর হাজারীবাগের আবু সাঈদ নামের ছেলেটি খুন হয়েছে। বাস্তবতা হলো, সে জীবিত ফিরে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। পুলিশ যাকে নিহত বলছে, ফিরে আসা আবু সাঈদ সেই একই ব্যক্তি কি-না, তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালে ১২ বছরের কিশোর আবু সাঈদ রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে অপহরণ হয়। এই অভিযোগ এনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হাজারীবাগ থানায় মামলা করেন তার বাবা আজম। পরে, বরিশাল থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলা তদন্ত করে পরের বছর, ২০১৫ সালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে আদালতে চার্জশিট দেয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, কিশোর আবু সাঈদকে অপহরণের পর লঞ্চ থেকে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে সোনিয়া আক্তার, তার ভাই আফজাল হোসেন, সাইফুল হোসেন ও শাহিন নামের চারজন জড়িত।

গত রবিবার 'কথিত আবু সাঈদ' হত্যা মামলার আসামিদের আইনজীবী আদালতকে জানান, যে কিশোর আবু সাঈদ খুনের মামলা এই আদালতে চলছে, সেই আবু সাঈদ বেঁচে আছে।

কাগজ-কলমে নিহত সেই কিশোর আবু সাঈদ ফিরে আসে ২৯শে আগস্ট। তাকে পাওয়া যায় বিহঙ্গ পরিবহণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন খোকনের বাসায়।

নাসির উদ্দিন খোকন বলেন, 'ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তোমার নাম কি সে উত্তর দিয়েছে আবু সাঈদ। এমনকি, সে তার বিস্তারিত পরিচয়ও দিয়েছে। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তোমাকে কে অপহরণ করেছিলো, তখন সে জানায়, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। সে বাবা-মা'র সঙ্গে রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিলো।'

'কথিত আবু সাঈদ' হত্যা মামলার দুই আসামি সোনিয়া ও আফজাল জানান, ডিবি অফিসে ধরে নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির তৎকালীন এসআই রুহুল আমিন তাদের নির্যাতন করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেন।

কথিত মামলার ভুক্তভোগী সোনিয়া আক্তার বলেন, 'ডিবি অফিসে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় নির্যাতন চালানো হতো। নির্যাতন করতে করতে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর আবার ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর, জ্ঞান ফেরার পর আবার নির্যাতন করা হতো। আমরা এই মামলার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। এরপরও, ডিবি অফিসে আটকে রেখে মামলা সাজিয়ে সেই মামলায় আমাদের কোর্টে চালান করে দেয়া হয়।'

কথিত মামলার আরেক ভুক্তভোগী আফজাল জানান, নারিকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে অমানসিক নির্যাতন চালানো হত।

বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয় আবু সাঈদসহ তার মা-বাবাকে। আবু সাঈদ নামের যে ছেলেটি গ্রেপ্তার হয়েছে, সে আসলে খুন হওয়া আবু সাঈদ কি-না, তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৫ এই আদেশ দেয়।