কৃষি ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৩:০৯

চায়না কমলাতে ভাগ্য বদল ফারুকের

ডেস্ক রিপোর্ট

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার নিধিকুন্ড গ্রামে ওমর ফারুকের মনোমুগ্ধকর চায়না কমলার বাগান। প্রতিদিন সকাল থেকে দর্শনার্থীর ভিড় লেগেই থাকে বাগানে চাইনিজ (চায়না) কমলা চাষ করে বড় ধরনের সফলতা পেয়েছেন ওমর ফারুক নামের ওই কৃষক।

গত বছর তিনি শুধু কমলার চারাই বিক্রি করেছেন ৫০ লাখ টাকার। এ বছরও তিনি ৫০ লাখ টাকার চারা বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন। এক সময়ে সবজির আবাদ করতেন কৃষক ওমর ফারুক। বছর দশেক আগে সবজি চাষের পাশাপাশি অনাবাদি জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তিনি গড়ে তোলেন নার্সারি। এরপর থেকেই তার নেশা জাগে নতুন ফলের বাগান করা। ওই নেশা থেকেই তিনি চায়না কমলা লেবুর চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এলাকাবাসীর।

গল্পের শুরুটা ২০১৫ সালের শেষ দিকে। ওমর ফারুক এক বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল খুলনাতে। সেখানে গিয়ে একটি বাড়ির আঙিনায় চায়না কমলার গাছ দেখতে পান তিনি। সেখান থেকেই ১০টি ডগা সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে কলম করেন। পরে সে চারা থেকে কলমের মাধ্যমে আরও চারা উৎপাদন করেন তিনি। পরের বছর শুরু করেন গাছের চারা রোপণের কাজ। নার্সারির পাশে নিজের পতিত ১ বিঘা জমিতে ১০০টি গাছের চারা রোপণ করেন এই কমলা চাষি।

২০১৮ সালের নভেম্বরে গাছে কমলা ধরে। এ কমলা অবিকল চায়নার কমলার মত দেখতে এবং রঙ ও স্বাদে একই রকম। ওই বছর তিনি আড়াই লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেন এবং বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ার জন্য ৩০ হাজার কলম চারা বাঁধেন। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ওমর ফারুককে। বর্তমানে এই কমলার বাগানের কারণে দেশব্যাপী বেশ পরিচিতিও লাভ করেছেন ওমর ফারুকের খান নার্সারি।

hjhj

কমলা চাষি ওমর ফারুকের ছেলে ইমরান খাঁন আকাশ জানান, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি তাদের বাগানের কমলা বিক্রি শেষ হয়েছে। প্রায় ৭ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। এছাড়া যে সমস্ত দর্শনার্থী বাগান পরিদর্শনে এসেছেন তারা বাগান থেকে নিজ হাতে ছিড়ে কমলা খেয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন যায়গা থেকে চাষিরা এসে কমলার চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। শুধু দেশেই না ভারত থেকেও এক চাষি মোবাইল ফোনে ১০ হাজার চারা কেনার বায়না দিয়েছেন।

কমলা চাষি ওমর ফারুক বলেন, খুলনায় বন্ধুর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে কমলা গাছের ডগা কেটে এনে কলম তৈরি করার পর গাছের চারা উৎপাদন করি। এরপর ৩৩ শতক জমিতে ওই ১০০টি কমলা গাছ রোপণ করার দু'বছরের মাথাই ফল ধরা শুরু করে। প্রথম বছর প্রতি গাছে ৫-১০ টি করে কমলা ধরেছিল। পরের বছর প্রতি গাছে ২০ থেকে ৩০ কেজি, তৃতীয় বছর প্রতি গাছে কমলা এসেছে ৮০ থেকে ৯০ কেজি এবং এ বছর প্রতিগাছে কমলা এসেছিল ১০০ থেকে ১৩০ কেজি পর্যন্ত।

তিনি আরও জানান, কমলা চাষে কম খরচে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। একটি গাছে গড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করা সম্ভব। এ হিসেবে এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত কমলা বিক্রি করে সব খরচ বাদে বছরে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। এ জাতের কমলার চাষ করতে তিনি সকল কৃষকদের উৎসাহিত করছেন। এ জাতের কমলা সারাদেশে চাষ হলে বিদেশ থেকে কমলা আমদানি করার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে যাবে। তার বাগানে যে কমলা উৎপাদন হচ্ছে তা খুব সুন্দর এবং খেতেও কড়া মিষ্টি।

কমলার চারা কিনতে আসা মজিবর রহমান জানান, আমি বৃক্ষপ্রেমী। বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে আমার বাগানে। এখানকার কমলা বাগানের কথা শুনে দেখতে এসেছি এবং অভিজ্ঞতা নিতে এসেছি। নিজের একটা কমলা বাগান করার ইচ্ছা আছে।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, কৃষক ওমর ফারুকের কমলার বাগানে তিনি একাধিকবার গিয়েছেন। কমলা চাষে সফল ওমর ফারুক এখন অনেকের কাছে উদাহরণ। কৃষি বিভাগ সবসময়ই এ ধরনের ভিন্ন জাতের ফসল উৎপাদনে সাহায্য-সহযোগীতা করে আসছে। ওমর ফারুকের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকন বলেন, দেখতে চায়না কমলা-লেবুর মতো হলেও স্বাদে খানিকটা এগিয়ে আছে। ব্যতিক্রম স্বাদের এ কমলা চাষে হাসি ফুটেছে কৃষক ওমর ফারুকের মুখে। নিঃসন্দেহে কৃষক ওমর ফারুক একজন সফল কৃষক।