উন্নয়ন সংবাদ ১৯ এপ্রিল, ২০২০

মেট্রোরেলের কাজ বন্ধ থাকলেও এগুচ্ছে পদ্মাসেতু ও বঙ্গবন্ধু টানেল

ডেস্ক রিপোর্ট।। 

করোনা ভাইরাসের প্রকোপে থমকে গেছে সারাবিশ্ব। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। থেমে গেছে রাজধানীর স্বপ্নের প্রকল্প মেট্রোরেলের কাজ। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। তবে বাঁধা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে দেশের আরেক স্বপ্নের প্রকল্প পদ্মাসেতু। প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও চলছে সেতুর রেললিংক তৈরির কাজ। এছাড়া ধীরগতিতে চললেও থেমে নেই চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের কাজ।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ও রেল মন্ত্রণালয় মিলিয়ে এই চার প্রকল্পে ব্যয় ১০০ হাজার কোটি টাকার বেশি। আগে থেকেই নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া বাড়তি ব্যয় ছিল সবগুলো প্রকল্পে। এখন করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যয় আবারও বাড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ে সেতু বিভাগের অধীনে পদ্মাসেতুতে এখন করোনা ভাইরাসের প্রভাব সরাসরি পড়েনি। প্রকল্পের কেউ করোনা আক্রান্ত হননি। এমনকি প্রকল্প নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় চীনের উহান হওয়ার পরও চীনা কর্মকর্তারা কোয়ারেন্টাইন মেনে দেশে ফিরে কাজে স্বাভাবিক হয়েছেন।

যেসব কর্মকর্তা ফিরতে পারেননি তাদের বিকল্প নিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্প্যান বসানোর কাজে মেশিন রোবট লাগিয়েছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং। করোনার মধ্যেই বসেছে দুটি স্প্যান। বাকি ১৩টির মধ্যে দুটি ছাড়া বাকিগুলোর তৈরির কাজ চলছে মাওয়ায়। এর মধ্যে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে দুটি। আগামী মাসের শুরুতেই এগুলো বসবে বলে জানিয়েছে সেতু বিভাগ।

আর পদ্মাসেতুর রেল লিংক প্রকল্পেও করোনার প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। করোনা ভাইরাসের মধ্যেই ৪০ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের উড়াল রেলপথের প্রথম ভায়াডাক্ট উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পদ্মাসেতু প্রকল্পের খুঁটির কাজ শেষ হওয়ায় সেখানকার ৭০০ শ্রমিককে রেললিংক প্রকল্পে নিয়োগ দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে সব শ্রমিককে একসঙ্গে কাজে লাগানো যাচ্ছে না করোনা ভাইরাসের কারণে। পদ্মার শ্রমিকরা শ্রীনগর অবস্থান করছে। কিন্তু রেললিংক প্রকল্পের কাজে তাদের গাড়িতে করে আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে।

তবে রেললিংকের সবচেয়ে বেশি কাজ দেখা যাচ্ছে পদ্মাসেতুর ওপারে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে শরিয়তপুরের জাজিরা পযন্ত। আগামী বছর পদ্মাসেতু চালুর সঙ্গে শুধু এই অংশে রেলপথ চালু হবে বলে জানিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়।

পদ্মাসেতু রেল লিংক প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম ফখরুদ্দিন এ চৌধুরী জানান, তাদের টার্গেট পদ্মাসেতুর সঙ্গে ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পযন্ত রেলপথ চালু করা। সেজন্য সে অংশে কাজ দ্রুত করা হচ্ছে। তবে ঢাকার অংশেও এগুচ্ছে কাজ। রেলসংযোগ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ২৩ শতাংশ।

পদ্মাসেতু প্রকল্প পরিচালক জানান, আগামী বছর জুনে পদ্মাসেতু খুলে দেওয়া হবে। তখন একসঙ্গে সড়ক ও রেলপথে চালু হবে। এখন পর্যন্ত পদ্মাসেতু চার কিলোমিটার দৃশ্যমান। শেষ হয়েছে পদ্মাসেতুর সড়ক ও রেলওয়ে স্ল্যাব তৈরি। যা এখন স্প্যানের ওপর বসানো চলছে পুরোদমে।

প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, মূল সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে মাওয়া এসেছে ৩৯টি। ২৮টি স্থাপন করা হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ২০০ মিটার। অবশিষ্ট ২টি স্প্যান চীন থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। আর এখন স্পেন ফেব্রিকেশন ইয়ার্ডে ১২টি স্পেনের কাজ চলছে। এরমধ্যে দুটি প্রস্তুত আকারে রয়েছে। মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি-৮৮ শতাংশ।

চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ জানান, টানেলের কাজ বন্ধ হয়নি। তবে আগের মতো গতি নেই। কারণ নতুন করে যেসব লোক চীন থেকে আসা প্রয়োজন তারা আসতে পারছে না। আবার দেশীয় প্রায় ১ হাজারের মতো শ্রমিক এখন কাজে নেই। এ অবস্থায় কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ধীরগতিতে চলছে। নতুন লোক আনার প্রক্রিয়া তারা চালাচ্ছেন। এ পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ৫২ শতাংশ।