রাজনীতি ৬ মার্চ, ২০২১ ০৭:০৩

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল দাবি করেছে গণফোরাম

ডেস্ক রিপোর্ট

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে চলা আলোচনা-সমালোচনা, সম্প্রতি এর প্রয়োগ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া শঙ্কার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন গণফোরামের সভাপতি ড.  কামাল হোসেন। একইসঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল দাবি করেছে গণফোরাম।

শনিবার (০৬ মার্চ) জাতীর প্রেস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের সভাপতি ড.  কামাল হোসেন এ কথা বলেন।

এসময় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে আইনটি বাতিলের দাবি জানায় গণফোরাম। এছাড়াও চলমান রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে সরকার ও ক্ষমতাসীনদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ড. কামাল হোসেন।

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী কোভিড ১৯ এর অভাবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে গণফোরামের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা গণফোরামের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। এখন থেকে আমরা সারা বাংলাদেশে আমাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার জনগণকে বৈষম্য ও শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্ত করতে না পারলে, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আমাদের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বর্ণিত 'রাষ্ট্রের মালিক জনগণ' এই কথাগুলো বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রণয়নে ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা অসম্ভব।

ড. কামাল বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত জনপ্রশাসনের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক রাজনৈতিক অধিকার সমূহ নিশ্চিত করার স্বপ্ন নিয়ে জনগণ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও জনগণের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে অর্জন করতে পারে নাই। গত অর্ধশতাব্দীতে আমাদের অনেক অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে এবং মাথা পিছু আয় বেড়েছে, কিন্তু বৈষম্য কমেনি।

ড. কামাল আরও বলেন, একটি চক্রের মাধ্যমে ব্যাংক লুটপাট, শেয়ার বাজার ধ্বংস এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করে এবং জনগণকে বঞ্চিত করে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

গণফোরামের সভাপতি বলেন, যখন আইন প্রণয়নে ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ অনুপস্থিত থাকে তখনই রাষ্ট্রের মালিক জনগণ অসহায় হয়ে পড়ে। তাই নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে পছন্দের সৎ প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারলেই আইন প্রণয়নে ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগে জনগণের ভূমিকা নিশ্চিত করা সম্ভব। আজ যারা নিজেদের নির্বাচিত দাবি করে দেশ শাসন করছে। তাদের প্রতি জনগণের আহা, বিশ্বাস ও সমর্থন নেই। জনবিচ্ছিন্ন এ সরকার জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার অপকৌশল হিসেবে বিভিন্ন কালা-কানুন জারি করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তারই অংশ বিশেষ। বস্তুত বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা অশুভ সিন্ডিকেটের কারণে চাল, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, এবং মুক্ত চিন্তার ওপর আঘাত করা হচ্ছে।

গণফোরাম জানায়, ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে ও দুই লাখ নির্যাতিত মা বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আজ নতজানু নীতি গ্রহণ করেছে। আজ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিবর্তে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে। জনগণের পিঠ আজ দেওয়ালে ঠেকেছে। সামনে সরব হওয়া ছাড়া জনগণের আর কোনো বিকল্প নেই। এই রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক লুটের বিরুদ্ধে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি আদর্শের ভিত্তিতে, গণফোরামের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে আগামী রমজানের আগেই দেশব্যাপী গণসংযােগ শুরু করব। তাই আমরা দেশের সর্বময় মানুষের সহযােগিতা ও অংশগ্রহণ কামনা করছি।