কৃষি ২৬ এপ্রিল, ২০২০

কৃষিপণ্যর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে আসছে জাতীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম

ডেস্ক রিপোর্ট।। 

কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্য যথাযথভাবে বিপণনের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে জাতীয়ভাবে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ সংশ্লিষ্টদের যুক্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এ প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ করছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পারায় কৃষকরা বঞ্চিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা।

দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কয়েক দফায় ছুটি বাড়ানো হয়। এখন সাধারণ ছুটি বহাল থাকবে ৫ মে পর্যন্ত।

এতে নারায়ণগঞ্জ, যশোর, বরগুনা, গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষকরা সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। চাহিদা থাকার পর দেশের অন্যান্য স্থানে তাদের উৎপাদিত পণ্য পাঠাতে পারছেন না। ফলে দাম না পেয়ে কৃষকরা বেগুন টমেটো, করলা, ঢেঁড়শ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন সবজি ও কৃষিপণ্য নষ্ট করে ফেলছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।

কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা অনলাইন মার্কেটিং সিসটেম করতে চাই। এর মাধ্যমে পাইকার, ভোক্তা, উদ্যোক্তা, উৎপাদনকারীদের মধ্যে একটা সমন্বয় হবে, উৎপাদিত পণ্যটা যাতে নির্বিঘ্নে ভোক্তার কাছে পৌঁছায়। উৎপাদনকারী যাতে ন্যায্যমূল্য পায়।’

তিনি বলেন, ‘এরকম পরিস্থিতিতে পঁচনশীল পণ্যের দাম কোথাও বেশি আবার কোথাও কম। আগে দেশের একপ্রান্তের সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আরেক স্থানে যেত। কিন্তু এখন লকডাউনের কারণে যেতে পারছে না। এতে হচ্ছে কী, যেখানে আগে যেত সেই এলাকার লোকটা পাচ্ছে না, ওখানকার ওই পণ্যটি যতটুকু হয় তা বেশি দামে কিনতে হয়। আর যে এলাকায় উৎপন্ন হয় সেখান থেকে কোথাও না যাওয়ার কারণে দাম কমে যায়। এ ধরনের দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে আমাদের এটা মেনে নিতে হচ্ছে।’

‘এজন্য আমরা একটা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করব। যার মাধ্যমে ক্রেতা অর্ডার দেবেন, কিছু রেজিস্টার্ড ট্রাক থাকবে যেগুলো চলাচলে কোনো বাঁধা থাকবে না। এর মাধ্যমে ট্রাকগুলো বিভিন্ন স্থানে চাহিদা অনুযায়ী কৃষিপণ্য পৌঁছে দেবে। এছাড়া মানুষের বাড়িতে কৃষিপণ্য পৌঁছে দিতে পারে এমন প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠতে হবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এটা আছে কিন্তু আমাদের দেশে এখনও কৃষিপণ্য ঘরে পৌঁছে দেয়ার মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি’ বলেন কৃষি সচিব।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, ‘আমাদের একশপ নামে অনলাইন বাজার ব্যবস্থা আছে। এর সঙ্গে অন্যান্যদের যুক্ত করে কৃষি বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে মন্ত্রী মহোদয়সহ সবাই একসঙ্গে বসেছিলাম, আমরা কৃষিপণ্যের সাপ্লাই চেইনটা ঠিক রাখতে চাই। এজন্য আমরা মূলত একশপকে কাজে লাগিয়েই নতুন প্ল্যাটফর্মটি করব। এটার জন্য কাজ চলছে। মুদি দোকানের তালিকা করা হয়েছে। কৃষি পণ্যের সরবরাহকারীরা এর সঙ্গে যুক্ত হবেন। এখানে চেম্বারের লোকজন যুক্ত হবেন, উৎপাদনকারী, পাইকারী ব্যবসায়ীরাও যুক্ত হবেন। এটা বড় একটা প্ল্যাটফর্ম হবে। বড় অনলাইন বাজার হবে।’

জিয়াউল আলম আরও বলেন, ‘যারা পোস্টাল সার্ভিস দেয় তাদের ভালো ক্যারিয়ার (যানবাহন) আছে, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে তাদের কাজে লাগানো যায় কিনা, সেটাও আমরা দেখছি।’