কৃষি ২৬ এপ্রিল, ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঝুঁকিতে মাঠ পর্যায়ের কৃষি বিভাগের কর্মীরা

ডেস্ক রিপোর্ট।। 

‘বোরো ধান ক্রয়ে কৃষক তালিকা তৈরি, আউশ ধানের প্রণোদনা কৃষকের তালিকা তৈরি, কৃষি কার্ড হালনাগাদ, ফসলের বালাই দমন, আম, কাঁঠাল, লিচুর ফলনে কৃষককে পরামর্শ দেয়া, ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব পালন-এমন আরো কত কিছু করতে হচ্ছে আমাদেরকে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের কোনো ধরণের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নেই।’

কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. হাদিউল ইসলাম ভুঁইয়া। 

তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত পিপিই বা অন্য কোনো সুরক্ষা সামগ্রী পাওয়া যায় নি। যে কারণে ঝুঁকি নিয়েই কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে, মাঠে থেকে তাঁদেরকে কাজ করতে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-পরিচালক মো. রবিউল হক মজুমদার মাঠ পর্যায়ে কাজ থাকায় ঝুঁকি রয়েছে বলে স্বীকার করে বলেন, এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষার কোনো সরঞ্জাম সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। 

জানা গেছে, সাধারন ছুটিকালীন ১৮টি মন্ত্রণালয়ের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের যেসব অফিস সীমিত পরিসরে খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নাম রয়েছে তিন নম্বরে। গত ২৩ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে ওইসব মন্ত্রণালয়ের অফিস সীমিত পরিসরে খোলা রাখতে নির্দেশেক্রমে অনুরোধ করা হয়। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি বিভাগে কর্মরতরা বর্তমান পরিস্থিতিতে অফিসে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হচ্ছে। লকডাউনের মধ্যেই বোরো ধান কাটতে আগ্রহী শ্রমিক সংগ্রহ করে তাঁদের নাম-ঠিকানার তালিকা তৈরি, ধান ক্রয়ের জন্য কৃষক তালিকা প্রণয়ন, কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ, কৃত্রিম সংকট যেন না সৃষ্টি হয় সে বিষয়ে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনসহ বিভিন্ন ধরণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে থেকে।