করোনা : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে ১০ সতর্কতা

প্রযুক্তি ডেস্ক।। 

বিশ্বের প্রায় সব দেশে রীতিমতো ভয়াল তাণ্ডব চালাচ্ছে ছোট্ট আণুবীক্ষণিক জীব করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহামারিতে রূপ নেওয়া এই ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে নিত্যদিন দেশে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সংকটপূর্ণ এই সময়টায় সরকার ঘোষিত ছুটিতে এখন বাসায় থাকছেন সবাই। আর অলস এই সময়টা কাটানোর জন্য মানুষ সবচেয়ে বেশি ভিড় করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। সামাজিক মাধ্যমগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফেসবুক। আর এই ব্যবহারের সুযোগ নিচ্ছে এক শ্রেণীর অসাধু চক্র।

ফেসবুক মেসেঞ্জারের যারা সক্রিয় ব্যবহারকারী, করোনা ভাইরাস বিষয়ে যে কোনো লিংকের ক্ষেত্রে তাদের এখন সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমানে ফেসবুক মেসেঞ্জারে সাইবার অপরাধীরা করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতার নামে বিভিন্ন ম্যালওয়্যার ছড়াচ্ছেন। এই ম্যালওয়ারের মাধ্যমে প্রতারণার জন্য ক্লোন বা নকল অ্যাকাউন্ট করা হচ্ছে ভিকটিমকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য।

আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্যের হ্যাকড একাউন্ট থেকে সাহায্য চেয়ে মোবাইল ব্যাকিংয়ের মাধ্যমে টাকা বা কোন লিংক ক্লিক করার পাশাপাশি মেইল বা ফোনে আসা কোড চাওয়া হচ্ছে। মানুষ সরল বিশ্বাসে দিচ্ছেন এবং তাদের একাউন্টও হ্যাক হয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় দুর্যোগের সময়কে পুঁজি করে এক শ্রেণীর অসাধু মানুষ তাদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে গুজব ছড়ায় এবং সেগুলো পোস্ট, ছবি বা ফেইক নিউজ সাইটের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তাই এই সময়ে কোনো কিছু দেখামাত্রই বিশ্বাস করা থেকে বিরত থাকাও জরুরি।

এই বিষয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্রাইম রিসার্চ অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশনের (ক্রাফ) টেকনিক্যাল ক্রু বি এম ইয়ামিন বলেন, ফেসবুক হ্যাক এই সময় খুব বেশি হচ্ছে। তাই ফেসবুকে ২ স্টেপ অ্যাপ্রোভাল কোডিং অপশন চালু রাখবেন।

এতে করে হ্যাকারদের নিকট আপনার ফেসবুক আইডি চলে গেলেও সে ক্ষেত্রে তারা সেটি চাইলেই ব্যবহার করতে পারবে না। কোনো ধরনের প্রলোভনে পরে কোনো সাইটে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলবেন না এবং আন অথরাইজড লগইন নোটিফিকেশন অন রাখবেন।

ক্রাফের প্রেসিডেন্ট জেনিফার আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিলে হয়তো আপনি বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারেন। যেই জিনিসগুলো লক্ষ্য রাখা জরুরি সেগুলো হচ্ছে-

১. সামাজিক মাধ্যমে অপরিচিত কারও বন্ধুত্বের অনুরোধ এখন গ্রহণ করবেন না।

২. সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না। আপনার কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধুর পাঠানো লিংক হলেও তাতে ক্লিক করবেন না।

৩. ভ্যারিফাইড সোর্স ছাড়া করোনাভাইরাস বিষয়ে সচেতনতামূলক কোনো পোস্ট বা লিংক শেয়ার করবেন না। পোস্টটির লিংকের মধ্যে হয়তো ম্যালওয়ার থাকার সম্ভাবনা আছে, যা আপনার শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধুদের কাছে ছড়াতে পারে।

৪. সন্দেহজনক কোনো ব্যবহারকারী মনে হলেই ফেসবুকে তাকে ব্লক করে দিন।

৫. ফেসবুকে জরুরি দরকার বলে কেউ টাকা চাইলে পাঠাবেন না। পরিচিত কেউ চাইলেও তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে কি না বা প্রকৃত ব্যক্তি বিপদে পড়েছে কি না, খোঁজ নিন এবং তারপরেই সাহায্য করবেন।

৬. করোনাভাইরাস প্রতিরোধী বলে দাবি করা কোনো মাস্ক, পিপিই, জরুরি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সংক্রান্ত আকর্ষণীয় প্রচারে প্রলুব্ধ হবেন না। ক্যাশ অন ডেলিভারি ছাড়া কেনাকাটা করবেন না। পণ্য হাতে পেয়ে ছবির সঙ্গে মিলিয়ে গ্রহণ করবেন।

৭. ফেসবুকে হাজার হাজার শেয়ার হলেই সেই ছবি, তথ্য, নিউজের সত্যতা রয়েছে এমনটি ভাববেন না। গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম এবং সরকারি সূত্রগুলো যাচাই করেই বিশ্বাস করবেন।

৮. দেখা মাত্রই কোন কিছু শেয়ার করবেন না এবং মিথ্যা, অসত্য, অর্ধ সত্য এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য যা সামাজিক বিশৃঙ্খলা বা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এমন কিছু শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

৯. করোনার ছুটিতে অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে স্বনামধন্য বা অনেক বেশি মানুষ ব্যবহার করছে এবং ক্যাশ অন ডেলিভারি সেবা দিচ্ছে এমন অনলাইন পেইজ বা সাইট থেকে অর্ডার করবেন।

১০. থার্ড পার্টি অ্যাপস, অপরিচিত কারো পাঠানো পিডিএফ এবং আপনার সংবেদনশীল ছবি ভাইরাল হচ্ছে এই ধরনের তথ্য দিয়ে কেউ যদি কোন লিংক দেয় সেগুলো ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।

এরপরেও যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যায় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করবেন। জরুরি প্রয়োজনে কল করবেন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে (টোল ফ্রি)।