খেলাধুলা ৩০ এপ্রিল, ২০২০

সাকিবকে নিষেধাজ্ঞায় ফেলা সেই জুয়াড়িও অবশেষে নিষিদ্ধ

স্পোর্টস ডেস্ক।। 

দীপক আগরওয়াল নিজেকে পরিচয় দেন ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে। কিন্তু অনেক আগে থেকেই আইসিসির আতস কাচের নিচে পড়ে আছেন তিনি। আইসিসির সন্দেহভাজন জুয়াড়িদের তালিকায় আছে তার নাম। গত বছর অক্টোবরে এই আগরওয়ালের দুর্নীতি-প্রস্তাব সময়মতো আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগকে না জানানোর অপরাধে বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়েছে। এবার আগরওয়ালকেও দুর্নীতি দমন বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে দুই বছরের জন্য ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করলো আইসিসি।

সাকিবের মতো আগরওয়ালও দোষ স্বীকার করে আইসিসিকে সহযোগিতা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে পার্থক্য হলো সাকিবের নিষেধাজ্ঞা যেখানে এক বছরের জন্য স্থগিত, সেখানে আগরওয়ালের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা ছয় মাসের। 

আইসিসি বুধবার বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সব শর্ত মেনে চললে দেড় বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আগামী বছর ২৭ অক্টোবর আবার ক্রিকেটে যুক্ত হতে পারবেন আগরওয়াল।

আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধিমালা তার অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রযোজ্য। সংযুক্ত-আরব আমিরাতের শারজায় অনুষ্ঠিত ১০ ওভারের ক্রিকেট টি-১০ লিগে সিন্ধিজ ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম মালিক হিসেবেই তিনি ‘অংশগ্রহণকারী’ এবং বিধিমালা ভঙ্গকারী। সিন্ধিজ অবশ্য গতবার এই লিগে অংশ নেয়নি।

আইসিসি বিবৃতিতে সংস্থার মহাব্যবস্থাপক (শুদ্ধাচার) অ্যালেক্স মার্শালকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘মি. দীপক আগরওয়াল বেশ কয়েকবার আমাদের তদন্তকাজে বাধা দিয়েছেন বা বিলম্ব ঘটিয়েছেন। এটা বিচ্ছিন্নভাবে একবারই ঘটেনি। তবে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধিমালা ভাঙার অভিযোগ দ্রুতই মেনে নিয়েছেন তিনি এবং অভিযুক্ত অন্যদের বিরুদ্ধে তদন্তকাজে দুর্নীতি দমন ইউনিটকে সাহায্য করে যাচ্ছেন। তার শাস্তির ক্ষেত্রে এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।’

ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লী নিবাসী ৩৪ বছর বয়সী দীপক আগরওয়াল ২০১৮ সালের নভেম্বরে টি-১০ ক্রিকেটে লিগে সিন্ধিজ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে একজন মালিক হিসেবে যোগ দেন। আর যোগদানের তিনদিন পর ২৬ নভেম্বর আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট তার সঙ্গে বসে।  উদ্দেশ্য অতীতে আরেকজন ‘অংশগ্রহণকারীকে’ কথিত দুর্নীতি-প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা। এই প্রস্তাবের সঙ্গে টি-১০ লিগের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। 

আইসিসি বলেছে, এই বৈঠকেই আগরওয়াল তার মোবাইল ফোনটি ‘সম্মতিক্রমে’ ‘তুলে দেন’ আইসিসির হাতে। এর একমাস পর দুর্নীতি দমন ইউনিট (এসিইউ) দেখতে পায় আগরওয়াল আরেক অনামী ব্যক্তির সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথাবার্তা বলেছেন, আইসিসি যাকে বলছে মি. এক্স। এই মি. এক্সের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ তদন্ত করছে এসিইউ।