সারাদেশ ২২ জুন, ২০২০

সাধারণের মাঝে অসাধারণ লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
লালমনিরহাটে বেড়ে চলা করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে আবারো মাঠে নেমেছে জেলার পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে হ্যান্ড মাইক নিয়ে ঘুরেঘুরে  অসচেতন মানুষদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করে করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।বর্তমানে জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা ৭৬ জন।

সাবিনা বেগম তার শিশু সন্তানসহ এসেছিলেন জেলা শহরে। কিন্তু মা ও শিশু কারোই মুখে মাস্ক ছিল না। এ অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তা তাদের থামিয়ে জিজ্ঞেস করলেন মাস্ক ছাড়া বের হয়েছেন কেন? মাস্ক ছাড়া বের হলে কি বিপদ হতে পারে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলেন এবং নিজ হাতে মায়ের কোলে থাকা শিশুটিকে মাস্ক পরিয়ে দিলেন। এসময় শিশুটির মা বললেন,‘ তিনি আর কখনোই অকারণে বের হবেন না আর বের হলেও মাস্ক পরেই বের হবেন।’  এভাবে একের পর এক বিভিন্ন বয়সের অসচেতন মানুষকে থামিয়ে মাস্ক বিতরণ করে করোনার ভয়াবহতা বুঝিয়ে দিচ্ছেন লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা। 

সোমবার দুপুরে জেলা শহরের  প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড়ে পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা নিজেই উপস্থিত থেকে মাস্ক ছাড়া বের হওয়া লোকজনকে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে বোঝান এবং অর্ধশতাধিক অসচেতন মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন। 

এ সময় পথচারীদের উদোদশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, করোনার হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে নিজের সুরক্ষা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। অবহেলা করলেই বিপদে পরতে হবে। তিনি আরও বলেন,‘ আমরা পুলিশ প্রতিদিন আপনাকে মাস্ক দিব না, কিন্তু পরবর্তীতে মাস্ক ছাড়া বের হলে একদিকে যেমন আপনারা যেমন নিজেই নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলবেন ঠিক তেমনি অন্যদের ঝুঁকির কারণ হয়ে মোটা অংকের জড়িমানা গুনে আর্থিক ক্ষতির মুখেও পরতে পারেন। 

পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন,‘ বর্তমানে দিন দিন করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলাবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই তিনি তার অবস্থান থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনার থাবা থেকে মুক্ত থাকতে ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতার কোনও বিকল্প নেই । তিনি সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহবান জানিয়ে বলেন,‘ আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে সর্তক থাকলে অনেকটাই নিরাপদে থাকতে পারব।’

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সদর থানা অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ আলম, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আঃ কাদেরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।