আইন ও আদালত ২৯ জুলাই, ২০১৯ ০২:০০

শ্বশুরের বিরুদ্ধে পিয়াসার গর্ভপাতের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি

সোনা ব্যবসায়ী দিলদার আহমেদ সেলিমের বিরুদ্ধে পুত্রবধূ ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসার করা মামলার সত্যতা পায়নি পুলিশ।

রবিবার (২৮ জুলাই) ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মজিবুর রহমান। প্রতিবেদনটি তোফায়েল হোসেনের আদালতে উপস্থাপন করলে আদালত দেখিলাম মর্মে স্বাক্ষর করেন।

এদিন মামলার বাদী আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের পুত্রবধূ পিয়াসা আদালতে হাজির হতে পারেননি। তাই পিয়াসার আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৭ আগস্ট প্রতিবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ঠিক করে দেন।

১১ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদের স্ত্রী পিয়াসার আবেদনে আপন রিয়েল স্টেটের উপদেষ্টা মোখলেছুর রহমানকেও আসামি করা হয়। আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বাদী পিয়াসা বলেন, পারিবারিকভাবে সাফাত ও আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর বাড়িতে বাস করে আসছি। বিয়ের পর থেকে শ্বশুর দিলদার আহমেদ আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করেছেন। আমাকে তালাক দিতে সাফাতকে চাপ প্রয়োগ করেন। সাফাত আমাকে তালাক না দিলে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা ও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার হুমকিও দেন।

বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, সাফাত বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলায় দীর্ঘ দিন কারাগারে থাকার পর গত ৩১ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান। এরপর তাকে নির্যাতনের বিষয়গুলো জানিয়েছি। এতে শ্বশুর আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। আমি ও সাফাত একসঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৩ ফেব্রুয়ারি তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। সাফাত কারাগারে যাওয়ার পর দিলদার আহমেদ ও তার সহযোগী মোখলেছুর রহমান আমাকে নির্যাতন করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ৫ মার্চ নিয়মিত গাইনি চিকিৎসক দেখানোর অংশ হিসেবে ও সাফাতের আদালতে হাজিরা থাকায় দেখার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হই। পরে বাসার গেটে প্রবেশ করা মাত্রই শ্বশুর ও মোখলেছুর রহমান আমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এসময় আমার কাছে থাকা ২ লাখ টাকা, গলায় থাকা ৫ ভরি স্বর্ণের নেকলেস, হাতে থাকা দুই ভরি স্বর্ণের চুড়ি ও দুটি হীরার আংটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন তারা। যার বাজার দাম প্রায় ৮ লাখ টাকা।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমি বাসায় ঢুকতে চাইলে শ্বশুর আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেন। বলেন, এ মুহূতে বাসা থেকে বের হয়ে যাবি, না হলে তোকে গুলি করে মারব। আমি ২ মাসের গর্ভবতী ছিলাম। গর্ভের সন্তানকে নষ্টের উদ্দেশে তিনি তলপেটে লাথি মারার চেষ্টা করেন এবং ধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন। পরদিন দরকারি জিনিসপত্র নেওয়ার জন্য এলে তিনি বলেন, আমার বাসায় আর কখনো আসলে তোকে প্রাণে শেষ করে দেব। এরপর চড়-থাপ্পড় মেরে আমাকে বাসা থেকে বের করে দেন।

তবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসার গর্ভের সন্তান নষ্ট ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ করা মামলার সত্যতা খুঁজে পায়নি।