সাক্ষাৎকার ২৯ জুলাই, ২০১৯

‘এফডিসিই একমাত্র আমাদের রুটি-রুজির জায়গা’

ঢাকাই সিনেমার আশির দশকের নায়ক আলী রাজ। এখন পর্যন্ত বেশ দাপটের সাথেই অভিনয় করে চলেছেন তিনি। তার সময়ের অনেকেই অভিনয়কে বিদায় জানিয়েছেন কিংবা না ফেরার দেশে চলে গেছেন কিন্তু তিনি এখনও অভিনয় করে চলেছেন নিয়মিতভাবে। এখন নাটক ও সিনেমা নিয়েই কাটছে তার ব্যস্ত সময়।

আলি রাজ বর্তমান সময়ের সিনেমা ও তার ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, এখন তো কাজ নিয়েই ব্যস্ত রয়েছি। জীবনে অভিনয়টাই তো শিখেছি আর এটা করেই তো খাচ্ছি। এটা ছাড়া তো আর কিছু করা হয় নি। এটাই আমাদের রুটি রুজির জায়গা। সিনেমা আর নাটক নিয়েই আছি এখন। হাতে বেশ কিছু সিনেমা রয়েছে এগুলা নিয়েই আছি। আর এর ফাঁকে নাটকে কাজ করছি। তবে আগের মত তো আর এখন নেই কোন কিছুই। সবকিছুতেই অনেক পরিবর্তন এসেছে। সিনেমা হয়তো খুব বেশি হচ্ছে না তবে গল্পের মান ও টেকনিশিয়ানের দিক দিয়ে আমরা অনেকটা এগিয়েছি। ভাল ভাল কাজ হচ্ছে।

ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা সবার জানা। এটা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। যেখানে আমাদের ১২০০-১৩০০ এর মত সিনেমা হল ছিল সেখান থেকে এখন রয়েছে মাত্র ২০০ এর মত। এ থেকেই বুঝা যায় আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কেমন! যে কয়টা হল আছে এখন এর মধ্যে হাতে গুণা কয়েকটা ছাড়া অনেক হলের অবস্থাই ভাল না। হলে বসে সিনেমা দেখার মত পরিবেশ নেই। এরকম হলে দর্শক সেখানে কেন সিনেমা দেখতে যাবে নিজের টাকা খরচ করে? আগে সেগুলোর পরিচর্যা করতে হবে, হল বাড়াতে হবে। একটা সময় আমরা দল বেঁধে হলে যেতাম সিনেমা দেখতে। হৈ হুল্লোড় করতাম, মজা করতাম। এক সপ্তাহ আগে থেকেই সবাই রেডি হয়ে থাকতাম ছবি দেখতে যাবো বলে। কিন্তু এখন দর্শকদের মনে সেই আনন্দটা কাজ করে না।

এই এফডিসি, সিনেমা তো বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি। তার হাতেই গড়া সবকিছু। বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টির এই অনাদর আর কত মেনে নেওয়া যায়! এটার সঠিক পরিচর্যা দরকার। সরকার যতক্ষণ না পর্যন্ত এটাকে কোলে করে এর পরিচর্যা করবে ততক্ষণ পর্যন্ত এটা ঠিক হবে। সরকারের উচিত একদম নিজের মত করে এটার দিকে নজর দেওয়া এবং দায়িত্ব নিয়ে আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান করা। তারপর হয়তো আবার আমরা সিনেমার সেই সোনালি দেখতে পাবো।

কারণ এই জায়গাটার সাথে অনেকেই জড়িত। অনেকগুলা পরিবার জড়িত। এটাই তাদের একমাত্র রুটি রুজির জায়গা। এখান থেকেই তোও কোন রকমে কাজ করে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে হয়। যারা অভিনয়টা ছাড়া আর কিছুই করেনি জীবনে তারা কিভাবে চলবে? এই জন্য সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির দিকে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।

আলী রাজের আসল নাম আনোয়ার হোসেন। সিরাজগঞ্জ থেকে তাকে ঢাকাই নিয়ে আসেন তার বন্ধু প্রখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার আনোয়ার হোসেন বুলু। আলী রাজের অভিষেক ঘটেছিল টিভি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। বিটিভিতে সেলিম আল দীনের লেখা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নির্দেশনায় ‘ভাঙ্গনের শব্দ শুনি’ নাটকে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। বিটিভিতে অভিনয়ের জন্য আবেদন করার সময় আনোয়ার হোসেন বুলু তার নাম লিখে দেন ডাব্লু আনোয়ার। সে সময় আলীরাজ ডব্লিউ আনোয়ার নামে পরিচিত ছিলেন।

বিটিভির ধারাবাহিক ‘ঢাকায় থাকি’ ছিলো টিভি নাটকে তার অভিনয় জীবনের সেরা কাজ। এতে তিনি মাহমুদ চরিত্রে অভিনয় করে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে তার জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে। নায়করাজ রাজ্জাকের নির্দেশনায় ‘সৎ ভাই’ চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। চলচ্চিত্রটি ওই বছরই মুক্তির পর সিনেমাতে আলী রাজ নিয়মিত হন। ডব্লিউ আনোয়ার থেকে নায়করাজের দেয়া নাম ‘আলী রাজ’ হিসেবেই পরিচিতি পান। এরপর তিনি মমতাজ আলীর ‘নিয়ত’, আজহারুল ইসলাম খানের ‘সহযাত্রী’সহ ১১০টি চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। চরিত্রাভিনেত্রা হিসেবে তিনি ৪০০ এরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।