আইন ও আদালত ৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:১২

আজই যুবলীগ নেতা সম্রাটকে তোলা হবে আদালতে

 ডেস্ক রিপোর্ট।। 

ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে ও তার সহযোগী আরমানকে আটক করেছে র‌্যাব।

আজ রবিবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। আজ রবিবার ভোর ৫টার দিকে তাকে থেকে আটক করা হয়। এসময় তার অন্যতম সহযোগী আরমানকেও আটক করা হয়।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের আইন ও গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম  জানিয়েছেন, আজ রবিবার ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে আদালতে তোলা হতে পারে।

সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, মানি লন্ডারিং আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হতে পারে। 

প্রসঙ্গত, চলমান ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগের কারণে যুবলীগ নেতা সম্রাটের নাম আলোচনায় আসে। অভিযানে যুবলীগ, কৃষক লীগ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা র‍্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। কিন্তু সম্রাট ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযান শুরুর প্রথম তিন দিন তিনি দৃশ্যমান ছিলেন। ফোনও ধরতেন। কয়েক দিন কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনে তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়েও অবস্থান করেন। ভূঁইয়া ম্যানশনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সম্রাটের অবস্থানকালে শতাধিক যুবক তাঁকে পাহারা দিয়ে রাখছিলেন। সেখানেই সবার খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পর অন্য স্থানে যান সম্রাট। এরপর তাঁর অবস্থান নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু করে র‍্যাব। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতারাই মূলত এই ক্যাসিনো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথম দিন ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান চালায় র‍্যাব। এরপরই গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ক্লাবটির সভাপতি খালেদ হোসেন ভুঁইয়াকে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক অঙ্গনের লোকেরা মনে করেন, ঢাকায় ক্যাসিনো ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক সম্রাট।

অভিযান শুরুর পর গত ২২ সেপ্টেম্বর সম্রাটের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি আদেশ দেশের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে পাঠানো হয়। তাঁর ব্যাংক হিসাবও তলব করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, সম্রাটের ব্যাংক হিসাবে কী পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়েছে, তার হিসাব দিতে। এরপর পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছিল, সম্রাট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে আছেন।