মুক্তমত ১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০১:৫০

অনন্ত মহাকালে আবরারের যাত্রা ও ছাত্র রাজনীতির অদূর ভবিষ্যত

ফয়সল ওয়াহিদ

কুষ্টিয়া মিশনারী প্রাথমিক স্কুল, কুষ্টিয়া জিলা স্কুল, নটরডেম কলেজ হয়ে বুয়েটের তরিৎ ও যন্ত্র কৌশল( ইইই) বিভাগে ১৭' ব্যাচে ভর্তি হয়েছিলেন এই অদম্য মেধাবী। আবরার ফাহাদের ফেইসবুক পোষ্টের লেখাগুলোই বলে দেয় যে তিনি খুবই সৃজনশীল ও রাজনীতি বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন।

আবরার বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে কৌশলে রম্যের ছলে সমালোচনা করতেন । লিখতেন  ব্যাক্তিগত বিষয় , তরিৎ ও যন্ত্র কৌশল বিভাগীয় তাত্ত্বীক কথা ও প্রকৃতির সাথে সখ্যাতার নানাবিধ দিক। টাইম লাইনে আবরার লিখেছেন "অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা, অসীম মহাকাশের অন্তে"। একটি ছবিতে দেখা যায় আবরার টেলিস্কোপে তাকিয়ে দূর পৃথিবী পর্যবেক্ষন করছেন। বুয়েটের আবরার সেই দূর পৃথিবী আর দেখবেন না। আদর্শ চর্চাহীন কিছূ অমানুষের হাতে একুশ শতাব্দীতে জন্মানো একটি দারুন নক্ষত্র গ্যালাক্সির ছায়াপথ থেকে সরে গেল। কলিজাজুড়ে বিষাক্ত অগ্নি শাবুলের খোঁচায় বার বার মূর্ছে যাচ্ছেন আবরারের মা জননী। দোষারোপ করা হচ্ছে ছাত্র রাজনীতিকে। বুয়েটে গত বিশ বছরে ৩ টি হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে। ২০০২ সালে টেন্ডার নিয়ে ছাত্রদলের মুকি ও টগর বাহিনীর বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন বুয়েটের ছাত্রী সাবেকুন্নাহার সনি।২০১৩ সালে বুয়েট ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক রায়হান দ্বীপ মৌলবাদী হামলায় নিহত হন।সবশেষ ২০১৯ সালে নিহত হলেন আবরার ফাহাদ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ইতোমধ্য মায়ের আসনে বসে চোখের জলে ভিজে সঠিক বিচারের গাইড লাইন দিয়েছেন।  

এখন বুয়েট থেকে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের সুপারিশ করা হচ্ছে।

 ইতিহাস বলে যেকোন সংকটে ছাত্র সমাজ সবার আগে ঝাপিয়ে পরে জাতিকে পথ দেখায়। পরাধীন আমলের ছাত্রলীগের ইতিহাস, ৯০ এর ইতিহাস, ১/১১ এর ইতিহাস গৌরবের সাক্ষ্য বহন করে।  

 

স্মরন করুন ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পরপরই ভারত চলে গেল একদিকে আর পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে রয়ে গেল একটি দেশ পাকিস্তান । ভাষা নিয়ে প্রশ্ন উঠল পূর্ব বাংলার ভাষা কি হবে বাংলা না উর্দু? কার্জন হলে এক ছাত্র সমাবর্তনে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ বললেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা। ছাত্র সমাজ তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ করল। তৎকালিন সময়ের তরুন রাজনিতিবিদ শেখ মুজিব কলকাতার বেকার হোষ্টেলে বসে কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে এক আলোচনায় বললেন পুর্ব বাংলার শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষের ভাষা যেখানে বাংলা এছাড়া বাংলা ভাষার যেখানে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস সেখানে উর্দু কখনও পুর্ব বাংলার রাষ্ট্র ভাষা হতে পারে।

১৯৪৮ সালে কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথও গণপরিষদে বাংলা ভাষীর পক্ষে কথা বললেন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের জন্য তারুনের নতুন স্রোত হিসাবে গঠন তরুন শেখ মুজিব গঠন করলেন পুর্ব পাকিস্তান ছা ত্রলীগ। পরবর্তিতে ছাত্রলীগ সারাদেশে মিছিল সমাবেশ করে জনতাকে বাংলা ভাষার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করে ১৯৫২ সালে গড়ে তুলেছিল মহান ভাষা আন্দোলন।  তারপর ১৯৬২র শিক্ষা আন্দোলন,  ৬৬র ৬ দফা , ৬৯র গণঅভ্যূত্থান ও ৭১ র স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্রলীগের হাজার নেতা কর্মী আকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছিল। ছাত্র রাজনীতি তখন ছিল সম্পূর্ন দেশপ্রেম, জ্ঞান- বিজ্ঞান ,ও আদর্শ ভিত্তিক। বঙ্গবন্ধু মুজিব কন্যা , দেশ রত্ন শেখ হাসিনা যদি আবারও আদর্শ, জ্ঞান, নৈতিকতা ও সংগ্রামের ভিত্তিতে ছাত্রলীগকে গড়ে তুলতে পারেন তাহলে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ আবরারের মত আবারও  টেলিস্কোপের একদিকে তাকিয়ে পৃথিবীর প্রান্ত ছাড়িয়ে দূর মহাকাশের পথে দৃষ্টি ছড়াবে।