আইন ও আদালত ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০১:১৪

টেন্ডারপ্রতি ৫ পার্সেন্ট কমিশন নিতেন মেনন: খালেদ

ডেস্ক রিপোর্ট।। 

খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।

খালেদ ক্যাসিনো বাণিজ্যের সুবিধাভোগী নেতাদের নাম বলে দিচ্ছেন। পাশাপাশি বড় বড় টেন্ডারে প্রভাবশালী নেতাদের কী হারে কমিশন দিতে হতো সেই সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ জানিয়েছেন, বড় বড় টেন্ডারে ভাগ বসাতেন রাশেদ খান মেনন। টেন্ডারপ্রতি ৫ পার্সেন্ট কমিশন দিতে হতো তাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

১৮ সেপ্টেম্বর ফকিরাপুলের ইয়ংম্যানস ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনোতে অভিযান চালানোর পর ক্যাসিনোকাণ্ডে সুবিধাভোগী হিসেবে রাশেদ খান মেননের নাম উঠে আসে। ইয়াংমেনস ক্লাবের চেয়ারম্যান পদে আছেন ঢাকার এই সংসদ সদস্য। এর এই ক্যাসিনোর মালিক ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা খালেদ।

ইয়াংম্যানস ক্লাবে অভিযানের সময় ক্যাসিনো থেকে আর্থিক সুবিধাভোগীদের নামের একটি লম্বা লিস্ট উদ্ধার করে র‌্যাব। এ তালিকার ৫ নম্বরে নাম আছে রাশেদ খান মেননের। তার নামের পাশে লেখা আছে ১০ লাখ। অর্থাৎ ক্যাসিনো থেকে মাসে রাশেদ খান মেনন ১০ লাখ টাকা পেতেন। অবশ্য ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন রাশেদ খান মেনন এমপি। তিনি বারবারই গণমাধ্যমে বলছেন, ক্লাব পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকলেও ক্যাসিনোর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

সূত্র জানায়, রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ তথ্য প্রমাণ দিয়ে মেননের চাঁদাবাজির তথ্য তুলে ধরে। খালেদ জানান, মেননকে বিভিন্ন টেন্ডার থেকেও টাকা পয়সা দিতে হত। অনেক ঠিকাদারি কাজের টেন্ডার পাওয়ার পর ৫ পার্সেন্ট হারে কমিশন নিয়েছেন মেনন। জিকে শামীমের সঙ্গে তার বিশেষ সখ্য গড়ে ওঠে।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী থেকে খালেদকে যুবলীগের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেন রাশেদ খান মেনন। খালেদকে আরও বড় পদ-পদবি দেয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে তদবির করেন। মেননের আশ্রয় পেয়ে রাজধানীর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে খালেদ। নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে উন্নয়ন কাজ ও শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিপুল অংকের টাকা লেনদেন হয়। খালেদের মাধ্যমে এই টাকার একটি বড় অংশ চলে যেত রাশেদ খান মেননের পকেটে।

নামকরা দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন ও আইডিয়াল কলেজে ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন রাশেদ খান মেনন ও তার সহযোগীরা। এছাড়া আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ নিয়োগ বাণিজ্যের প্রমাণ পায়। কিন্তু তার হাইভোল্টেজ তদবিরের কারণে ওই সময় এসব রিপোর্ট কেউ ছাপতে পারেনি।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে বামপন্থী নেতা রাশেদ খান মেননের নাম উঠে আসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। ক্যাসিনোর সঙ্গে যারাই জড়িত ছিলেন তাদের সবাইকেই আইনের মুখোমুখি করা হবে। সেক্ষেত্রে কে বাম নেতা বা কে ডানপন্থী নেতা তা আমাদের বিবেচ্য নয়।

এছাড়া ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িত আরও বেশ কয়েকজন বড় মাপের রাজনীতিক দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। রাজধানীর বনানীতে বসে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতেন এমন একজন হেভিওয়েট রাজনীতিক হঠাৎ করেই চুপচাপ হয়ে গেছেন। র‌্যাবের অভিযান শুরুর পর তিনি অস্বস্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।