মুক্তমত ৩১ অক্টোবর, ২০১৯ ০১:০২

সাকিবের ফিক্সিং কল, মেননের ক্যাসিনো

 

ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে পুরো জাতি সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু সাকিব ক্রিকেটারদের ব্যবহার করেছেন। ভারত সফরের আগে পানি ঘোলা করে সহানুভূতি নিয়েছেন। প্রশ্ন হলো কেন?

সাকিব নিজেই আইসিসিতে ম্যাচ ফিক্সিং কল- গোপন করার কথা স্বীকার করে আসেন। একবার না তিনবার তিনি গোপন করেছেন। দুই বছর ধরে তদন্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত কবে হতে পারে এবং কি শাস্তি হতে পারে সে ধারণাও তার ছিলো। রায়ের সময় সম্পর্কেও তার ধারণা না থাকার কথা নয়।
আর সে কারণেই তিনি
১.ক্রিকেটারদের নিয়ে ধর্মঘট করেছেন।
২. আইন অমান্য করে গ্রামীণ ফোনের সাথে চুক্তি করেছেন।
আইন অমান্য করে গ্রামীণ ফোনের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি করার কারণ খুবই স্পষ্ট। তিনি জানতেন নিষেধাজ্ঞা আসবে। তাই দ্রুত চুক্তিটি করে ফেলেন। কারণ আগাম কিছু টাকা নিয়ে নেয়া। আর যদি নিষিদ্ধও হন তারপরও যাতে এই ব্যবসাটা থাকে।
আর তিনি হয়তো অনুমান করতে পেরেছিলেন নিষেধজ্ঞার কারণে তার ভারত সফর অনিশ্চিত।
ধর্মঘটের মাধ্যমে জল ঘোলা করে সহানুভূতি নেয়ার ফলও তিনি পাচ্ছেন। এখন বাংলাদেশের ‘বোদ্ধা ফেসবুকাররা’ তাকে নিষিদ্ধ করার জন্য পাপনকে দূষছেন। কেউ কেউ হয়তো দু-একদিনে সরকারের হাতও আবিস্কার করে ফেলবেন।
এখানেই রাশেদ খান মেননের সাথে সাকিবের মিল-
মেননের নাম আসে ক্যাসিনোর সঙ্গে। সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় ইয়ংম্যান ক্লাবের ক্যাসিনো থেকে মেনন মাসে ২০ লাখ টাকা নিতেন। মেনন তাই নাটক করলেন গ্রেপ্তারের ভয়ে। যদি গ্রেপ্তার হন সেই ভয়ে আগেই বিদ্রোহী হলেন। যাতে গ্রেপ্তার হলে বলতে পারেন ওই কথা বলার কারণে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই বরিশালে বললেন,‘ আমি নিজেও এমপি হয়েছি। তারপরও বলছি। আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি।’ এখন কিন্তু মেনন সুর পাল্টে দু:খ প্রকাশ করেছেন।
আর সাকিব অবশ্য আইসিসির কাছে আগেই দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে এসেছেন।
পাদটিকা:
আইসিসি ম্যাচ ফিক্সারদের সাথে সাকিবের কথোপকথনও এরইমধ্যে প্রকাশ করেছে। আর তাতে এক পর্যায়ে সাকিবকে টাকার( ডলার একাউন্ট, বিট কয়েন) প্রস্তাব দিলে সাকিব আগারওয়ালের সাথে আগে দেখা করতে চান।
কী বুঝলেন?

লেখক- হারুন উর রশীদ (হেড অব নিউজ বাংলা ট্রিবিউন)