আইন ও আদালত ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:১২

আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসার অভিযান আজও রহস্য

ডেস্ক রিপোর্ট।। 

গত ২৭ অক্টোবর চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গুলশানের বাসায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। জব্দ করা হয় বিভিন্ন অবৈধ মালামাল। কিন্তু অভিযানের ১৭ দিন পার হলেও এখনো কোনো রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

অভিযানে অবৈধ বিদেশি মদ, গাঁজা, সিসা, ক্যাসিনো সামগ্রী ও একটি মিনি বার জব্দ করা হয়। অভিযোগ আছে, এসব অবৈধ কাজে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ভাতিজা ওমর মোহাম্মদ ভাই জড়িত। কিন্তু এখনো তাকে গ্রেফতার করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, আত্মগোপনে থাকায় ওমর মোহাম্মদ ভাইকে গ্রেফতারের নানা চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসায় অভিযানের পর গুলশান থানায় মাদকবিরোধী আইনে দুইটি মামলা করা হয়। এই দুইটি মামলার তদন্ত করছেন সংস্থাটির দুইজন পরিদর্শক। তারা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও ওমর মোহাম্মদ ভাইয়ের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছেন।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে ওই মদের গোডাউনের কেয়ারটেকার নবীন ও পারভেজকে দুই বার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু অবৈধ মালামালের রহস্য উদঘাটন হয়নি। ফলে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসার মিনি বার, মিনি ক্যাসিনো ও বিদেশি মদের গোডাউন কে বা কারা পরিচালনা করতেন তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনও হাতে আসেনি।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানের খবর শুনে যেহেতু ওমর মোহাম্মদ ভাই পালিয়েছেন, তাই তার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো কিছু প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। এখন তাকে গ্রেফতার করা গেলে রহস্য ভেদ হবে।

ওমর মোহাম্মদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান  বলেন, ‘তদন্তে অনেক বিষয়ই উঠে এসেছে। ওমর মোহাম্মদ ভাইয়ের সংশ্লিষ্টতাকে সামনে রেখেই তদন্ত চলছে। তবে তদন্ত শেষ করতে আরও সময় লাগবে।’

 
অপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক মো. ইব্রাহিমরবলেন, ‘অভিযানে গ্রেফতার আসামিরা অনেক তথ্যই দিয়েছেন। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (উত্তর) খোরশেদ আলম  বলেন, `তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে ওমর মোহাম্মদ ভাই আমাদের সন্দেহের তালিকার শীর্ষে আছেন। তাকে গ্রেফতার করা গেলে প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।’

প্রসঙ্গত, ২৭ অক্টোবর আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের মালিকানাধীন গুলশান-২ এর ৫৭ নাম্বার ১১/এ বাড়িটিতে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

অভিযানে বিপুল পরিমাণে অবৈধ বিদেশি নামীদামি ব্র্যান্ডের মদ, গাঁজা, সিসা খাওয়ার সামগ্রী, ক্যাসিনো খেলার সামগ্রী ও একটি মিনি বার জব্দ করা হয়। অভিযানে নবীন ও পারভেজ নামে দুইজন কেয়ারটেকারকে আটক করা হয়।