ধর্ম ও জীবন ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০৫:২০

ইসলামি বইমেলা নিয়ে নেই কোনো প্রচারণা!

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক।।

বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ প্রাঙ্গণে ইসলামি বইমেলা কোনোরকম প্রচারণা ছাড়াই চলছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগের উদ্যোগে হিজরি রবিউল আউয়াল মাস উপলক্ষে মাসব্যাপী এই ইসলামি বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এই মেলার আয়োজন করেই দায় সেরেছে। এবারও লেখকদের বসার জন্য আলাদা কোনো জায়গা রাখেনি। সরকারি প্রচার মাধ্যমে এই মেলা সম্পর্কে প্রচারণার কোনো উদ্যোগ নেই। ঢাকা শহরের ইসলামি সাহিত্যপ্রেমীরাও এই বইমেলা সম্পর্কে জানতে পারে না। মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই মেলা নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোনো প্রচার-প্রচারণার উদ্যোগ নেই। মেলাকে জনপ্রিয় করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং রয়েছে মেলার স্টল বরাদ্দ নিয়ে বাণিজ্য ও দলবাজির অভিযোগ।

অমর একুশে বইমেলায় ইসলামি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহ বরাবরই অবহেলিত। এমতাবস্থায় নানামুখী প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়েই ইসলামি সাহিত্য বিশ্বে এগিয়ে চলছে। সেখানে এই মেলাটি হতে পারতো বাংলাদেশে ইসলামি সাহিত্যের অন্যতম মিলনমেলা। কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদাসীনতা, লক্ষহীন পথচলায় তা আর হয়ে উঠছে না। তার পরও ব্যক্তিগতভাবে ইসলামি সাহিত্যপ্রেমীরা মেলায় যান, ইসলামি বই সংগ্রহ করেন। প্রকাশনা সংশ্লিষ্টদের দাবি, দিন ইসলামি সাহিত্যের কদর বাড়ছে। তরুণদের মাঝে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ছে ব্যাপকহারে। নারীদের আগ্রহী করে তুলছে ইসলামি বই।

মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিঙ্গেল স্টলের জন্য ৮ হাজার টাকা এবং ডাবল স্টলের জন্য ১৬ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। কিন্তু মেলার প্রচার-প্রচারণ না হওয়ায় তেমন বিক্রি নেই। ফলে মেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে লোকসান গুণতে হচ্ছে প্রতিদিন না। এ কারণে ভবিষ্যতে মেলায় স্টল নিতে অনাগ্রহ দেখা দিচ্ছে প্রকাশকদের। প্রকাশকরা বলছেন, প্রচার-প্রচারণাবিহীনভাবে যদি মেলা চলতে থাকে তাহলে মেলা এমন ক্রেতাশূন্যই থাকবে।

যদিও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা শাহারুল হুদা সরকার দাবি করছেন, মেলায় প্রতিদিনই বিকেলে ভিড় হয়। বর্তমানে ইসলামিক চিন্তাধারার বই কেনা ও পড়ার মতো পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে তাই মেলায় ক্রেতাদের উপস্থিতিও বাড়ছে। অনেকে তাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য ভালো ভালো ইসলামি বই খুঁজতে মেলায় আসেন। বিশেষ করে বেশি বিক্রি হচ্ছে তাফসির গ্রন্থ, বোখারি শরিফ ও সিরাত গ্রন্থ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বাজেটের অভাবে বোখারি শরিফ সব খণ্ড ও সিরাত ইবনে কাসির চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ছাপতে পারছে না।

মেলার আগে ও শুরু থেকে কোনো প্রচার-প্রচারণার কাজ করেনি ফাউন্ডেশন। কিন্তু বাংলাদেশে প্রত্যেকটি মেলার আগেই বিভিন্নভাবে প্রচারণার কাজ করে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশকরা বেশ কয়েকবার ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো কাজে আসেনি।

এবার মেলায় ৬২টি স্টল আছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এসব স্টলে নবী মুহাম্মদ (সা.) সহ অন্যান্য নবী-রাসূলদের জীবনী, কোরআনের অনুবাদ, হাদিসের অনুবাদ, ইসলামের ইতিহাস, নও মুসলিমদের সাক্ষাতকারভিত্তিক বই, মনীষীদের জীবনী থেকে শুরু করে ইসলামি বিষয়ের ওপর মৌলিক, অনুবাদ ও গবেষণামূলক গ্রন্থ স্থান পেয়েছে।

কোনো কোনো স্টল আকর্ষণীয় কমিশনে বই বিক্রি করছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এবার বিক্রির শীর্ষে রয়েছে হাদিসের বই। বই ছাড়াও মেলার বিভিন্ন স্টলে টুপি, জায়নামাজ, আতর, মেসওয়াক ও তাসবিহ বিক্রি করা হচ্ছে। স্টলের বাইরে কাপড়ের দোকান, আতর-টুপির দোকান বরাদ্দ দিয়ে মেলার সৌন্দর্য্য নষ্ট করা হয়েছে।

এভাবেই প্রকাশকদের অভিযোগ-আপত্তি আর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের আত্মতৃপ্তির মাঝে দর্শকশূন্য অবস্থায় চলছে ইসলামি বইমেলা।