আন্তর্জাতিক ১৪ আগস্ট, ২০১৯ ০১:২৬

রাশিয়ায় পরমানু চূল্লীতে বিস্ফোরনে নিহত ৫ বিজ্ঞানী, ছড়াচ্ছে তেজষ্ক্রিয়তা

ছবিঃ সংগৃহিত

ছবিঃ সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

গত বৃহস্পতিবার(৮ আগস্ট) রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন পরীক্ষার সময় হওয়া রহস্যজনক বিস্ফোরণে মৃত পাঁচ পরমাণু বিজ্ঞানীকে মরণোত্তর সম্মান দিল রাশিয়া। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে তাদের দেশের নায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিএনএন জানিয়েছে, বিস্ফোরণে নিহত ৫ বিজ্ঞানী হলেন অ্যালেক্সে ভুশিন, ইয়েভজেনি করাতায়েভ, ভিয়াচেসলভ লিপশেভ, সের্গেই পিচুগিন ও ভ্লাদিস্লাভ ইয়ানোভস্কি।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র রোসাটম-এর অধীনস্থ একটি কেন্দ্রের প্রধান ভ্যালেন্টিন কস্টিউকভ সোমবার নিহত বিজ্ঞানীদের জন্য মরণোত্তর পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে বলেন, ‘যাঁরা পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন তাঁরা প্রত্যেকেই দেশের নায়ক। তাঁরা রাশিয়ার ফেডেরাল পরমাণু কেন্দ্রের প্রথম সারির গবেষক। বহু কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন।’এই পাঁচ বিজ্ঞানী কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে গিয়ে মারা গেলেন, সে বিষয়ে রোসাটমের জারি করা বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘দেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এমন একটি মিশনে তাঁরা কাজ করছিলেন।’

মস্কোর এমন পদক্ষেপ এই বিস্ফোরণ ঘিরে বিশ্বের কৌতুহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কী এমন ঘটেছিল শ্বেতসাগরে, যার জেরে তড়িঘড়ি বিজ্ঞানীদের পুরস্কৃত করার পথে হাঁটল ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ?

টাইম ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যে প্রতিষ্ঠানে নিহত বিজ্ঞানীরা কাজ করতেন সেখানকার বৈজ্ঞানিক পরিচালক ভিয়াচেসলভ সোলোভিয়েভ স্থানীয় একটি টিভিকে বলেছেন, রাশিয়ার শ্বেতসাগরে (হোয়াইট সী) ঘটা বিস্ফোরণস্থলে একটি ছোট পরমাণু চুল্লিও ছিল।

এদিকে মার্কিন পরমাণু বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, বিস্ফোরণটি শুধু সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত নয়, বরং পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এমন কোনো কিছুতে ঘটেছিল। কারন ঘটনাস্থল থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়াচ্ছে। ক্ষেপনাস্ত্রের ইঞ্জিন বিস্ফোরনে তেজষ্ক্রিয়তা ছড়ানোর কথা নয়।

এই ঘটনার পর বিস্ফোরণস্থলের পাশের একটি শহরে তেজষ্ক্রিয়তার মাত্রা হঠাৎ করেই অনেকটা বেড়ে যায়। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও তৈরি হয়। যদিও মস্কো অবশ্য এর কোনওটাই স্বীকার করেনি।

এর আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন থাকাকালীন বর্তমান ইউক্রেনের চেরনোবিলে পরমানু চূল্লীতে বিস্ফোরনের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এতোই ব্যাপক হয় যে, ধারনা করা হয় যে তার দরূন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নই ভেঙ্গে পড়ে।

এই পাঁচ বিজ্ঞানী কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে গিয়ে মারা গেলেন, সে বিষয়ে রোসাটমের জারি করা বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘দেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এমন একটি মিশনে তাঁরা কাজ করছিলেন।’