আইন ও আদালত ২৭ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:৩১

হোলি আর্টিজান হামলায় নিহত এসি রবিউলের মা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান

ডেস্ক রিপোর্ট।। 

২০১৬ সালে গুলশানের হোলি আর্টিজানে নৃশংস জঙ্গি হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে যে দুই নির্ভীক পুলিশ কর্মকর্তা আত্মাহুতি দেন তাদের একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রবিউল করিম।

'আমার ছেলের হত্যাকারীদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়। এ রায় যেন পৃথিবীর বুকে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। আমি চাইনা পৃথিবীর আর কোনো মা অকালে তার সন্তানকে হারায়। কোনো সন্তান যেন এভাবে তার বাবাকে না হারায়। কোনো স্ত্রী যেন তার স্বামীকে না হারায়।' এসব কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন হোলি আর্টিজান হামলায় নিহত সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল করিমের মা কারিমুন্নেসা বেগম।

২০১৬ সালের ১লা জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে প্রাণ দেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম এলাকার মৃত. আব্দুল মালেকের ছেলে রবিউল করিম।

বুধবার (২৭শে নভেম্বর) সেই জঙ্গি হামলার রায় ঘোষণা করবেন আদালত। সেই রায়ে দোষীদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় এমন আশায় বুক বেঁধে আছেন নিহত রবিউলের পরিবার।

হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউলের মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবারটি। এরপর, দুই বছর আগে রবিউলের স্ত্রী উম্মে সালমা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র রবিউলের আত্মাহুতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চিন্তা থেকেই রবিউলের স্ত্রী’কে চাকরি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চাকরির সুবিধার্থে তিনি ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুরে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন।

নিহত রবিউলের দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সাজিদুল করিম (৮) পড়ছে ধামরাইয়ের একটি স্থানীয় স্কুলে। ছোট মেয়ে রাইমার বয়স সাড়ে তিন বছর। রবিউল করিমের মৃত্যুর একমাস পরেই পৃথিবীর মুখ দেখে রাইমা।

রায় নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানতে কথা হয় রবিউল করিমের স্ত্রী উম্মে সালমার সঙ্গে। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীরা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। দেশ ও দেশের বাইরের সবার কাছে যেন এই রায় অনুকরণীয় হয়ে থাকে। তাহলেই রবিউলের আত্মা শান্তি পাবে।

তিনি আরও জানান, ২০১২ সালে রবিউল তার নিজ উদ্যোগে গ্রামের ঝরে পড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের পড়াশুনার জন্য ব্লুমস নামে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর রবিউলের কয়েকজন বন্ধুরা মিলে কোনো রকম স্কুলটি চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকার যদি এই স্কুলটির দিকে একটু নজর দিতেন তাহলে রবিউলের স্বপ্নটা বেঁচে থাকতো।

উম্মে সালমা আরও বলেন, তার স্বামীকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে কিন্তু তার কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। সরকার যদি একটা সনদের ব্যবস্থা করে তাহলে ভবিষ্যতে আমার সন্তানেরা তার প্রমাণ দিতে পারতো।

এসি রবিউল ইসলামের ছোট ভাই শামসুজ্জামান শামস বলেন, ২৭শে নভেম্বরের রায়টি হবে একটি দৃষ্টান্তমূলক রায়। এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হবে যে, দেশবাসী এবং সরকার জঙ্গিবাদকে কখনো প্রশয় দেয়নি বা দিবেও না। এই রায়ের দিকে শুধু দেশবাসী নয় বরং বিশ্ববাসীও তাকিয়ে আছে।