আইন ও আদালত ১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৫:১৭

শ্যালিকাকে পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন ভগ্নিপতি

ডেস্ক রিপোর্ট ।।

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে শ্যালিকাকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে ভগ্নিপতি মো. শাহিন মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রবিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কিরণ শংকর হাওলাদার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাহিন মিয়া (৩৩) জেলার নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের ভাটিবরাটিয়া গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের শেখ নবীনপুর গ্রামের ফাইজুল মিয়ার মেয়ে সুজেনাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর শুরুতে তারা রাজধানী ঢাকায় থাকত। মাস ছয়েক পর শাহিন তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে ঘরজামাই থাকতে শুরু করেন। 

২০১৭ সালের ১১ মে রাতে শ্যালিকা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রোকসানা আক্তারকে পড়ার টেবিল থেকে কৌশলে ঘরের বাইরে নিয়ে কিছু দূরের একটি পাটক্ষেতে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে পাশের একটি ডোবায় ফেলে হত্যা করে। রাত ৩টার দিকে বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি করে ওই ডোবা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রোকসানার মরদেহ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনায় পরের দিন ১২ মে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার রোকসানার বাবা বাদী হয়ে শাহিন মিয়া, আরেক জামাতা রুবেল ও একই এলাকার কাজলকে আসামি করে নিকলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। 

নিকলী থানা পুলিশ শাহিনকে গ্রেপ্তার করলে সে পুরো ঘটনায় জড়িত বলে পুলিশ ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ সময় সে রুবেল ও কাজল ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছিল। কিন্তু আদালতে দেওয়া পুলিশের অভিযোগপত্রে মামলা থেকে রুবেল ও কাজলের নাম বাদ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এম এ আফজল বলেন, শাহীন তার জবানবন্দিতে রুবেল ও কাজলকে ফাঁসাতে চেয়েছিল। কিন্তু সাক্ষ্য প্রমাণে কোথাও শেষ দুজনের নাম আসেনি। কাজেই পুলিশের অভিযোগপত্র মোতাবেক বিচার হয়েছে।