লাইফ স্টাইল ১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৫:৪৫

শীতের ঢাকায় গ্রামীণ পিঠার পসরা  

ডেস্ক রিপোর্ট 

শীত আর পিঠা যেন বাঙালির কাছে সমার্থক।গ্রামে কার্তিক মাসেই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে প্রকৃতি। ঢাকায় এ দৃশ্য চোখে পড়ে না। ঢাকায় পৌষের শেষে ও মাঘের শুরুতে শীতের আঁচ গায়ে লাগে। এখানে রাস্তার পাশের পিঠা বিক্রেতারা শীতের আগমনী বার্তা পৌঁছে দেয় শহরের যান্ত্রিক মানুষের কাছে। তারাই যেন গ্রামের পিঠা উৎসবের আমেজ পৌঁছে দিতে চায়।

বর্তমানে গ্রাম্য ঐতিহ্যের পাশাপাশি শহরাঞ্চলে পিঠা বিক্রি হয়ে উঠেছে জীবিকা নির্বাহের একটি অন্যতম উপায়। বিশেষ করে নারীরা বেশি আগ্রহী এ পিঠা ব্যবসায়। নকশী কাঁথা, কারুশিল্প, চারুশিল্প ইত্যাদি নানা শৈলীতে নারীর দখলদারিত্ব রয়েছে সবসময়। নানাজাতের পিঠা তৈরিও একধরনের শৈলী। এই সৃজনশীলতা এখন আর ঘরের মুখরোচক খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা হয়েছে উপার্জনের পথ।

প্রতিবছর কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার বিভিন্ন অলি-গলির মোড়ে দেখা যায় পিঠা বিক্রেতাদের। যাদের বেশিরভাগই নারী। কোথাও আবার স্বামী-স্ত্রী উভয়েই একসঙ্গে কাজ করছেন। তৈরি করছেন খেজুরের গুড় আর নারকেলের ভাপা পিঠা, ৫-১০ রকমের ভর্তার সাথে চিতৈ পিঠা, মালপোয়া ইত্যাদি। ভাপা পিঠা ও চিতৈ পিঠার চাহিদা তুঙ্গে। শুঁটকির ভর্তা, ডাল ভর্তা, ধনেপাতার ভর্তা, সরষে বাটা, শিম ভর্তা, শুঁটকি ভুনা, কালোজিরা বাটা আরও কতো ধরনের ভর্তা, যা পথচারীদের আকৃষ্ট করে। বিকেল থেকে পিঠা তৈরির প্রস্তুতি চলে, সন্ধ্যায় পুরোদমে চলে বিক্রি। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষ পিঠা খাচ্ছে আবার কেউ কেউ বাসায় নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে দুই-তিন হাজার টাকা বিক্রি হয়। ঋতু কেন্দ্রিক এই ব্যবসা ডিসেম্বর মাসে হয় বলে নতুন বছরে ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে ভর্তির টাকা জোগাড়ে এই বাড়তি আয় কাজে লাগে দরিদ্র পরিবারে।

এভাবেই একটি ঋতুর সঙ্গে মিলে মিশে অর্থনীতির চাকা ঘুরে। শহরবাসির রসনা তৃপ্ত হয়। গ্রামের অর্থনীতিও সচল হয় একই সঙ্গে। শীতের ঢাকা অন্য রূপ পায়। যা মনে করায় অনেককে অতীতের স্মৃতি।