উন্নয়ন সংবাদ ২ অক্টোবর, ২০২০ ০৫:৪৩

‘রেডলেডি পেঁপে’ চাষে সফল চট্টগ্রামের শাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

তাইওয়ানের ‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপে চাষে সাফল্য দেখছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. শাহেদ আয়াত উল্যাহ খান। এক বছর আগে কৃষিবিভাগের পরামর্শে এ ফল চাষ শুরু করে বর্তমানে সফল এ উদ্যোক্তা।

প্রায় দশ একর পরিত্যাক্ত পাহাড়ী টিলা ভূমিতে ছয় হাজারেরও বেশি ‘রেডলেডি’জাতের পেঁপের চারা রোপণ করেন মো. শাহেদ আয়াত উল্যাহ খান। স্বল্প মেয়াদি এই রেডলেডি পেঁপে চাষের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী উন্নত জাতের কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, আম ও বড়ইয়ের চাষ করেছেন তিনি।

ব্যবসায়ী মো. শাহেদ জানান, ‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপে বেশ সুমিষ্ট হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। ইতিমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ফেনীর পাইকারী বাজারে জায়গা করে নিয়েছে তাঁর এই রেডলেডি পেঁপে। চলতি বছর ৪০ থেকে ৫০ টনেরও বেশি পেঁপে বিক্রি করতে পারব বলে মনে করি।

শুরুর দিকে ছয়মাস প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫জন শ্রমিক অস্থায়ী কাজ করলেও বর্তমানে স্থায়ী ভিত্তিতে ৬ থেকে ৭ শ্রমিকসহ এ বাগানে দৈনিক গড়ে দশ শ্রমিক কাজ করে।

বাগানের স্থায়ী শ্রমিক রাবেয়া বেগম সাথী বলেন, এ বাগানে কাজ করেই তিন ছেলের লেখাপড়া আর সংসার চলে তার। একইভাবে এ বাগানেই নিয়মিত শ্রমিক হিসেবে কাজ করে ইন্দ্রজয় ত্রিপুরার সংসারও চলছে এ কৃষি খামার থেকে পাওয়া বেতন দিয়েই।

তাইওয়ানের উচ্চ ফলনশীল বামন প্রজাতির এ পেঁপে চারা রোপণের ৫-৬ মাসের মধ্যে ফুল আসে এবং ৭-৯ মাসের মধ্যে প্রথম ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি পেঁপের ওজন হয় দেড় থেকে দুই কেজি। খেতে সুমিষ্ট এ পেঁপে কাঁচা ও পাকা উভয় প্রক্রিয়াতেই বাজারজাত করা যায়। পাকা পেঁপে খুব সহজে নষ্ট হয় না বলে বাজারজাত করাও খুব সহজ। এ জাতের পেঁপের রোগ সহ্য করার সক্ষমতা বেশি ফলে লাভজনক। ‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপে গাছের আয়ুকাল দুই বছরের অধিক।

কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ চাকমা এ বিষয়ে বলেন, পাহাড়ের ঢালুতে এ জাতের পেঁপে সম্ভাবনাময়। ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা রেডলেডি পেঁপে চাষে এগিয়ে এসছেন। অনেকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যও পেয়েছেন। পরিকল্পিত বাগান সৃষ্টিসহ সঠিক পরিচর্চা করা গেলে এ জাতের পেঁপে পাহাড়ী কৃষকের ভাগ্য সহ পাহাড়ের অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে।