কৃষি ৪ অক্টোবর, ২০২০ ০৪:৪৪

ভোলায় ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৬৩ হাজার মে. টন

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ভোলায় চলতি অর্থবছর ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার মেট্রিকটন টন। মা ও জাটকা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের কারণে প্রতিবছর ইলিশের উৎপাদনের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছিলো প্রায় ১০ হাজার মেট্রিকটন ইলিশ। এবছরও লক্ষ্যমাত্রার থেকে অধিক ইলিশ পাওয়া যাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যে স্থানীয় নদ-নদী ও সাগরে ধরা পরছে প্রচুর ইলিশ। এছাড়া ইলিশের প্রজনন নির্বিঘœ করার জন্য আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ শিকার, পরিবহন, বিক্রি ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজাহারুল ইসলাম জানান, ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধিতে মা ও জাটকা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম, নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। ইলিশ সুরক্ষায় মানুষের সচেতনতার অভাব থাকলেও বর্তমানে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ফলে সবাই সচেতন। যার ফলে আমরা কয়েক বছর যাবত বাজারে বেশ বড় ইলিশ (এক কেজির উপরে) দেখতে পাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ইলিশ বড় করতে হলে কিন্তু বেশ সময় দিতে হয়। মাছটাকে ডিম ছাড়ার পর চলে যাওয়ার সময় দিতে হয়। নিষিদ্ধকালীন সময়ে এর শিকার কম হচ্ছে। জেলেরা আইন মানছে। যেটা খুবই ভালো ব্যাপার।

স্থানীয় নদ-নদী ও সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। ব্যস্ত হয়ে পরেছে জেলে পাড়া। মাছ ঘাট, বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দর কষা-কষিতে মুখরিত হচ্ছে। বিভিন্ন পাড়া, মহল্লা ও সড়কের পাশে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের ইলিশ বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। ছয়শ থেকে সাতশো গ্রামের ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এক কেজির উপরের ইলিশের মূল্য বেশি চাওয়া হচ্ছে জানায় অনেক ক্রেতা। অবশ্য বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, ছোট বা মাঝারী ইলিশের তুলনায় বড় ইলিশের চাহিদা একটু বেশি তাই দামটাও।

সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান মৌসুম শেষে ইলিশ ধরার ব্যাপারে বলেন, আগে জুন-জুলাইকে ইলিশের মৌসুম হিসাবে ধরা হতো কিন্তু এখন তা এখন সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয়ে মার্চ পর্যন্ত চলে। যার ফলে শীতেও ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া  মা ইলিশ সংরক্ষণে বিভিন্ন মাছ ঘাট, আড়ৎগুলোতে প্রচার চালানো হচ্ছে। একইসাথে ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট এর মাধ্যমে জনসাধারণকে আরো সচেতন করা হচ্ছে।