আইন ও আদালত ১৫ অক্টোবর, ২০২০ ০২:৫২

নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক ইলিয়াস হত্যা মামলার সুষ্ঠ তদন্ত দাবী স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবাদ প্রকাশের জেরে নারায়ণগঞ্জে বন্দর উপজেলার জিওধরা গ্রামে স্থানীয় সাংবাদিক ইলিয়াসকে হত্যার পর মামলাকে ভিন্নখাতে নিতে চেষ্টা করছে স্থানীয় একটি প্রভাশালী চক্র । এই অবস্থায় মামলার সুষ্ঠ তদন্ত ও সাংবাদিক হত্যার ন্যায় বিচার দাবী করেছেন নিহতের স্ত্রী জুলেখা বেগম। 
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে জুলেখা বেগম এই দাবী জানান।
 লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার স্বামী ইলিয়াস হোসেন দৈনিক স্বদেশ আমার পত্রিকার বিন্দর প্রতিনিধি ছিলেন। এরআগে তিনি স্থানীয় বিজয় পত্রিকাতে বন্দর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একসময় সৌদি প্রবাসী ও পরে এলাকায় ফিরে মাদকের কারবারী ও চোরাই গ্যাস সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী মাসুদ প্রধান ও তার ভাইয়ের মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারনে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ ছিল।স্থানীয়দের অনুরোধে প্রায় ৩ মাস আগে মাসুদ প্রধান গংদের চোরাই গ্যাস সিন্ডিকেট ও মাদক কারবার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেন। প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মাসুদ ও তার সহযোগীরা আমার স্বামীকে হুমকি ধমকি এবং টর্চারসেলে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে। বিষয়টি পত্রিকার সম্পাদক মো. সেন্টুকে জানালে তিনি বিষয়টি মিমাংসার আশ্বাস দেন এবং থানায় জিডি বা মামলা করা থেকে বিরত রাখেন। সেন্টু কৌশলে মাসুদের কাছ থেকে কিছু আর্থিক সুবিধা নিয়ে তার পক্ষ নিয়ে কাজ করে।গত ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইলিয়াস জিওধরা বাজার থেকে রুস্তপুরগামী রাস্তার প্রবেশমুখ দিয়ে বাসা ফেরার সময় মাসুদের লোকজন তার ওপর হামলা করে। তারা সাংবাদিক ইলিয়াসকে এলোপাথাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে লোকজন এগিয়ে এ ইলিয়াসকে উদ্ধার করে স্থানীয় ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় আমি স্থানীয় মাদক কারবারী ও সন্ত্রাসী আদমদপুরের জামালের ছেলে তুষার (২৮) ও হাসনাত আহমেদ তুর্জয়, জিগুধরার নূরুল মিয়ার ছেলে মাসুদ (৩৬), আবদুল বাতেনের ছেলে সাগর (২৬), ফালানের ছেলে পাভেল (২৫), হামিদ মিয়ার ছেলে হযরত আলী (৫০), মিছির আলী (৫৩) ও মিনা (৬০)সহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে মামলা করি। মামলার পর স্থানীয় একটি চক্র মূল আসামীদেরকে বাঁচাতে মামলাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা পুলিশকেও বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে আমার আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে। মাদক কারবারীদের বাঁচাতে নানামুখী তৎপরতার কারণে হত্যা মামরাটির সঠিক তদন্ত নিয়ে আমাদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমননি নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসনের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা আমাদেরই আত্মীয়-স্বজনকে এই মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।