অপরাধ ও দুর্নীতি ১৭ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:৫৬

সিলেটের পুলিশ ফাঁড়ি যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

সিলেট মহানগর পুলিশের আওতাধীন সাতটি ফাঁড়ি যেন পরিণত হয়েছে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে। ফাঁড়ির ইনচার্জ ও পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই সাধারণ মানুষের। হয়রানির শিকার হয়েও ভয়ে এতোদিন মুখ খুলতেন না ভুক্তভোগীরা। কিন্তু রায়হান আহমদ হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান অভিযুক্ত বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়ার দুর্নীতি, হয়রানি ও অপরাধ কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর ফাঁড়ি পুলিশের ব্যাপারে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ফাঁড়িতে দায়িত্ব পেয়ে ইনচার্জরাও যেন পেয়ে যান সোনার খনি। তাই একবার কেউ ইনচার্জের দায়িত্ব পাওয়ার পর বদলি হয়ে তিনি আর যেতে চান না থানায়। ঘুরতে থাকেন ফাঁড়ি থেকে ফাঁড়িতে। ফাঁড়িই যেন তাদের কাছে মধুর হাড়ি।

২০১৪ সালে পদোন্নতি পেয়ে উপ পরিদর্শক (এসআই) হন ফাঁড়িতে নির্যাতন করে যুবক রায়হান হত্যার প্রধান অভিযুক্ত আকবর হোসেন ভূইয়া। গেল বছরের মাঝামাঝি সময়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্ব পেয়েই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন আকবর।

তার বিরুদ্ধে হকার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, অসামাজিক কার্যকলাপের সুযোগ করে দিয়ে বিভিন্ন হোটেল থেকে মাসোহারা আদায় এবং মাদক, ছিনতাই ও জুয়ার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।

লকডাউনের সময় ব্যবসায়ীদের দোকান খোলার সুযোগ দিয়ে শাটার প্রতি একহাজার টাকা করে আদায় করতেন আকবর। এছাড়া রাতে নিরীহ লোকজনকে ধরে এনে মাদক ও অবাঞ্ছিত নারীদের দিয়ে চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়েও টাকা আদায় করতেন তিনি।

গত শনিবার রাতে নগরীর নেহারীপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমদকে ফাঁড়িতে ধরে এনে দাবিকৃত ১০ হাজার টাকা না পেয়ে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ ওঠে এসআই আকবর ও ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর এসআই আকবরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর পরপরই গা ঢাকা দেন আকবর।

অভিযোগ রয়েছে মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরম্যানেজকরেই ফাঁড়ি থেকে ফাঁড়িতে ঘুরেন এসব ইনচার্জ।

এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহের জানান, মহানগর পুলিশে ইতিবাচক অনেক পরিবর্তন আসছে। ফাঁড়ির ইনচার্জরা কেন শুধু ফাঁড়িতে থাকতে চায় তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।