বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি ২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০৯:৫৮

বছরে তিনশ কোটি টাকা ফাঁকি

টেক ডেস্ক

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের হারও বাড়ছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেস (বেসিস) মতে, দেশীয় কোম্পানিগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপনে বছরে দুই হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করছে।

এসব বিজ্ঞাপন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট ভিত্তিক কোম্পানি ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামসহ আরও কিছু আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে।

ডোমেইন, হোস্টিং ও সার্ভার বিক্রি থেকেও অ্যামাজন, গোড্যাডিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানি প্রতিবছর বড় অঙ্কের অর্থ আয় করছে। এই আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর ও উৎসে করসহ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে নূন্যতম ৩০০ কোটি টাকা সরকারের রাজস্ব আয় হওয়ার কথা। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলেও তাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করা যাচ্ছে না।

প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এনবিআর। এনবিআরের নির্দেশনার পর শুধু ফেসবুক ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগ করলেও গুগল এবং গুগলের মালিকানাধীন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবসহ অন্য কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানিই ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগ দেয়নি। এনবিআর থেকে গুগলকে বারবার তাগাদা দিলেও কর্ণপাত করছে না প্রতিষ্ঠানগুলো।

গুগল ও ইউটিউবকে ধরা না গেলেও ফেসবুকের বাংলাদেশ এজেন্ট এইচটিটিপুল গত আগস্টে ৯১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) এনবিআরে জমা দিয়েছে। এনবিআরকে যে হিসাব এইচটিটিপুল দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ফেসবুক আগস্ট মাসে ছয় কোটি ২৩ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন বিক্রি করেছে। তবে ফেসবুকসহ অন্যান্য বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে অন্তত ১০ বছর ধরে ব্যবসা করছে।

হাইকোর্টের পাঁচ দফা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্নিষ্ট কোম্পানিগুলোকে পরিশোধিত অর্থ থেকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সব ধরনের ট্যাক্স, ভ্যাট এবং অন্যান্য রাজস্ব আদায় করতে হবে। ফলে এ নির্দেশনার আলোকে বিগত বছরগুলোয় বাংলাদেশ থেকে আয়ের ওপর তাদের ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হবে।

ফেসবুক, গুগল, ইউটিউবের বিষয়ে আদালতে রিটকারী আইনজীবীরা বলছেন, ইন্টারনেট ভিত্তিক এসব প্রতিষ্ঠান বলে থাকে, বাংলাদেশ থেকে আয়ের ওপর তারা সিঙ্গাপুরে কর পরিশোধ করছে। সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে, এই চুক্তির আওতায় তারা সিঙ্গাপুরে অফিস চালু করে বাংলাদেশে সেবা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদান নিশ্চিতে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে। গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কোম্পানি হওয়ায় এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে আসতে পারে। এতেও সমাধান না হলে বাংলাদেশ থেকে এসব মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ সংকোচনের কথা ভাবা যেতে পারে।