বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৫:৪৪

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ বাংলাদেশকে ডিজিটাল করার যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন সেটি অনেকখানি পূরণ হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে সারা দেশে চলছে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প প্রকল্পটির মাধ্যমে সারা দেশের তরুণ-তরুণীদের আইটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে

দেশের বিপুল সংখ্যক জনগনকে আইটি খাতে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে নানান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাচ্ছে সরকার এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প অন্যতম লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প একটি সম্পূর্ণ বিনা খরচে আইটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যা বাংলাদেশ তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে

প্রকল্পটির লক্ষ্য হচ্ছে সারা দেশে নতুন ৪০ হাজার তরুণ-তরুণীকে আইটি খাতে প্রশিক্ষণ প্রদান করে ফ্রিল্যান্সিংয়ে মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা

গত ২৫ নভেম্বর রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) অডিটরিয়ামে "ফ্রিল্যান্সিং আইডি কার্ড সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন" অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সে সময় তিনি বলেন, আজকে এই ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড প্রদানের জন্য একটা ওয়েব পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে, যা থেকে সকল ফ্রিল্যান্সার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে আইডি কার্ড সংগ্রহ করতে পারবে এতে ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক পরিচিতি তৈরির পাশপাশি ব্যাংক ঋণ পেতে পারবে এবং তাদের ক্ষমতায়নে সহযোগিতা করতে পারবে

তিনি আরও বলেন, এটাও একটা কাজ এটাও এক ধরনের চাকরি কিন্তু সেটা হচ্ছে নিজেই নিজের বস এবং শুধু বস না, আরও অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া, অন্যের বস হওয়া

এই করোনা (কোভিড-১৯) মহামারিতে সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক চাকা যেখানে হুমকির মুখে ঠিক তখনই বাংলাদেশের  ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী দিক নির্দেশনা, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পৃষ্ঠপোষকতা এবং আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সার্বক্ষণিক তদারকিতে আজ বাংলাদেশ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে আইটি জগতে বাংলাদেশ শুধু উন্নতই নয় বরং যে কোন পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব বর্তমানে সারা দেশে লক্ষাধিক দক্ষ ফ্রিল্যান্সার আছেন। যারা নিজেদের আয়ের পাশাপশি নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন এবং দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছেন

উক্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি সারা দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯২টি উপজেলায় চলমান রয়েছে নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদেরকে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের যে কোন একটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বর্তমান প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার তরুণ-তরুণীকে দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে

লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের ১৫টি লটের মধ্যে "-মিডিয়া বাংলাদেশ লি:", "নাবিল টেক" এবং "ইউনিফাইড কোর লি:" যৌথ ভাবে লট-১৪ এর আওতায় নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কিশোরগঞ্জ জেলাগুলোতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছে জেলাগুলোতে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজারের অধিক প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে তাদের মধ্যে প্রায় এক হাজার প্রশিক্ষণার্থী অনলাইন মার্কেটপ্লেসে উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছে তাদের উপার্জিত আয়ের পরিমান প্রায় ৬০,০০০ ইউ. এস. ডলার বাকি প্রশিক্ষণার্থীদের উপার্জন কার্যক্রম চলমান রয়েছে

লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের সফলতা সম্পর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া একজন প্রশিক্ষণার্থী সুমন সাহা (একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এখন আমাকে আর কেউই বেকার বলতে পারবেনা, আমি কারো জন্য বোঝা হতে চাই না। উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত সুমন সাহা অনলাইন থেকে উপার্জন করেছেন প্রায় এক হাজার ইউ. এস. ডলার

লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের মতো এমন যুগোপযোগী কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সকল প্রশিক্ষণার্থীগন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের সিনিয়র সচিব জনাব জিয়াউল আলম, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জনাব আখতার মামুন (উপসচিব) এবং লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং প্রকল্পের সফলতা কামনা করেন