আন্তর্জাতিক ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:০৭

ভারতে গড়ে উঠেছে আরব শেখদের যৌনপল্লী

ডেস্ক রিপোর্ট।। 

চার দশক ধরে এই হায়দরাবাদ আরব শেখদের বউবাজারে পরিণত হয়েছে। তাঁরা কুমারী ও কিশোরীদের খোঁজে এখানে আসেন। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কুমারী মেয়ে তাঁদের পছন্দ। দরিদ্র মুসলিম পরিবারের অভিভাবকেরা বিপুল অর্থের লোভে নিজের মেয়েকে কথিত বিয়ে দিয়ে শেখদের যৌন চাহিদা মেটাতে তাঁদের হাতে তুলে দেন।

দেশটির কলাম লেখক ও বুদ্ধিজীবী মীর আইয়ুব আলী খান বলেন, এই পুরোনো শহরটির সঙ্গে আরব শেখদের বহু বছর থেকেই সম্পর্ক রয়েছে। ইয়েমেনের অনেক নাগরিক বারকাস এলাকায় বসবাস করেন। তাঁদের মাধ্যমেই আরব শেখরা হায়দরাবাদের মেয়েদের বিয়ে করতে আসছেন। আর পরিবারের অভাব-অনটনের কারণেই আরব শেখদের হাতে মেয়েকে তুলে দিচ্ছেন মা-বাবা।

জামিলা নিশাত বলেন, ‘শেখরা মূলত দেখতে সুন্দর ও আকর্ষণীয় শারীরিক গড়নের কারণেই হায়দরাবাদের মেয়েদের পছন্দ করেন। তাঁরা এসব মেয়ে নিয়ে গৃহস্থালির কাজ করান। অনেক মা-বাবাই অল্প বয়সে শেখের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে চান। কারণ, তাঁদের ধারণা মেয়ের ঋতুচক্র আসার পর বাড়িতে থাকাটা পাপ।’

পুলিশ জানায়, হায়দরাবাদে কিশোরী মেয়ের খোঁজে বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, সুদান ও সোমালিয়ার শেখরাই আসেন।

পুলিশের উপকমিশনার সত্যনারায়ণ বলেন, শেখরা পর্যটন ভিসা ও কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা ভিসা নিয়ে হায়দরাবাদে আসেন। যাঁরা আসেন তাঁদের সবাই বিত্তশালী নন। কেউ কেউ নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারেরও আছেন।

আরব শেখরা পছন্দ করা মাত্রই দ্রুত ওই কিশোরীর সঙ্গে বিয়ের আয়োজন করেন। বিনিময়ে তাঁরা কিশোরীর পরিবারকে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত দেন। এ ছাড়া সুন্দর পোশাক, সোনা ও কখনো বাড়ি পর্যন্ত দিয়ে দেন। এসব অর্থ কিশোরীর পরিবার, দালাল ও কাজি বাঁটোয়ারা করে নেন।

শাহীনের চেয়ারপারসন জামিলা নিশাত বলেন, ‘অনেক সময় কিশোরীর পরিবার যে অর্থ পায় তা অনেক কম। কিন্তু তারপরও তাঁরা খুশি যে, মেয়ের বিয়েতে তাঁদের কোনো খরচ করতে হলো না।’

১২ বছর বয়সে বছর ৭০-এর দুবাই থেকে আসা এক শেখের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ওয়াসিমের। তাঁর বয়স এখন ২৭। তিনি বলেন, ‘বিয়ে ও যৌনতা সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তু আমাকে ওই শেখের সঙ্গে তা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। এরপর মালামাল আনার জন্য দুবাই গেলে তিনি আর ফিরে আসেননি। আমার একটি মেয়ে হয়েছে। এখন আমি সেলাইয়ের কাজ করি।’

একই ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলাঘাট এলাকার মুনীরা ফাতেমার (১৮) জীবনে। ২০১৮ সালে সৎবাবা তাঁকে ওমানের ৭৫ বছর বয়সী এক বুড়ো শেখের সঙ্গে বিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আমাকে একটি অবকাশকেন্দ্রে নিয়ে দুই মাস ছিলেন। এটি আমার বাড়ি থেকে একটু দূরে। জোর করে প্রতিদিন তিনি আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতেন। আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তিনি বিয়ের সব কাগজপত্র নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকে টেলিফোনে তিনি আমাকে তিন তালাক দেন।’

বর্তমানে উন্নয়ন সংস্থাগুলো মেয়েদের শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। পুলিশও দালাল-কাজি ও আরব শেখদের কিশোরী মেয়েদের কেনা–বেচার চক্রটি ধরতে তৎপর হয়েছে।