লাইফ স্টাইল ৯ এপ্রিল, ২০২৩ ০৩:২৯

পরার পর খাওয়া যাবে নবদম্পতির গয়না 

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

আমাদের কাগজ ডেস্কঃ কত শত বিচিত্র সংস্কৃতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আমাদের মহাকাব্যের জীবনের এই গোলক ধাঁদায়। কোন কোন জায়গায় আবার বিশেষ মর্যাদা পেয়ে থাকে তাদের আনুষ্ঠানিক সংস্কৃতিগুলো। সোনা, রুপা সহ পুঁতি, কাঠ বিভিন্ন ধরনের গয়না পরেন নারীরা। যেসব গয়না পোশাক এবং ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই। বিয়ে কিংবা যে কোনো অনুষ্ঠানে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গয়নার থাকে নানান বৈচিত্র্যতা। 

তবে ভারতের মহারাষ্ট্রে বিয়েতে কনেরা বিচিত্র এক ধরনের গয়না পরেন। সাধারণ গয়নার মতো দেখালেও তা তৈরি হয় ভিন্ন উপকরণে। সেই বিশেষ গয়নার নাম ‘হালওয়া দাগিন’। মারাঠি ভাষায় হালওয়া মানে মিষ্টি আর দাগিন মানে গয়না। ‘মিষ্টি গয়না’ পরার ঐতিহ্য মিষ্টি এবং সুখের একটি বছরের সূচনা করে বলে বিশ্বাস করা হয়।

বিশেষ এই গয়না তৈরির উপকরণ হলো-চিনি, সাগু এবং তিলের বীজ। মূলত বিয়ে এবং মকর সংক্রান্তিতে এই বিশেষ গয়না পরেন মহারাষ্ট্রের নবদম্পতি। এছাড়াও নবজাতক শিশুকেও এই গয়না পরানোর রীতি মহারাষ্ট্রে। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে দাগিন তৈরির সূক্ষ্ম শিল্প।

সোনা, রুপার গয়নায় বসানো হয় চিনির তৈরি পুঁতি। দেখে মুক্তার মতো মনে হলেও এগুলো আসলে চিনির তৈরি ছোট্ট ছোট্ট মিষ্টি। চাইলে খেতেও পারবেন এগুলো। মঙ্গলসূত্র, নেকপিস, ব্রেসলেট, চুরি, সীতাহার সহ সব ধরনের গয়নায় ব্যবহার করা হয় এই পুঁতিগুলো।

চিনির গহনা তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ কঠিন। এতে চিনির সিরাপকে একটি নির্দিষ্ট সামঞ্জস্যের সঙ্গে রান্না করতে হয়। যা পরে ছাঁচে ঢেলে দেওয়া হয় বা হাত দিয়ে আকৃতি দেওয়া হয়। একবার সিরাপ সেট হয়ে গেলে, এটি সাবধানে ছাঁচ থেকে সরানো হয় এবং ভোজ্য রূপা বা সোনার ফয়েল, খাবারের রঙ এবং অন্যান্য অলঙ্করণ দিয়ে সাজানোর আগে শুকানো হয়।

উল্লেখ্য, অতীতে নারীরা ঘরেই এই গয়না তৈরি করতেন। সকালে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকতে থাকতে বানাতেন ছোট্ট মিষ্টি। তারপর সুতায় গেঁথে গয়না বানাতেন। তবে এখন অনেক পেশাদার কারিগর রয়েছেন এই গয়না তৈরির জন্য। রেডিমেড বাজার থেকে কিনে এনে ব্যবহার করতে পারেন এই গয়না।

কতই না বিচিত্র সংস্কৃতি ছড়িয়ে আছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। গয়না পরতে ভালোবাসেন না এমন নারী কমই আছেন। 
 

আমাদের কাগজ/এমটি