আন্তর্জাতিক ১৫ এপ্রিল, ২০২৩ ০৬:৫৪

সুদানে বিশৃঙ্খলা: প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখলে নিলো আধা সামরিক বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরুর পর সুদানের আধা সামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) দাবি করেছে, শনিবার (১৫ এপ্রিল) প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ, সেনাপ্রধানের বাসভবন এবং খার্তুম বিমানবন্দর দখলে নিয়েছে তারা। এদিকে আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করেছে দেশটির বিমান বাহিনী। এর মধ্যে তিনজন বেসামরিক মানুষ নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

হামলা শুরুর পেছনে সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে আরএসএফ। সুদানের মেরোওয়ে এবং পশ্চিমে এল-ওবেইদের বিমানবন্দর দখলে নেয় আরএসএফ। বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিমান বাহিনী আরএসএফের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।


একাধিক টেলিভিশনের লাইভে দেখা গেছে, খার্তুমের আকাশে একটি সামরিক বিমান চক্কর দিচ্ছে। কিন্তু বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্বাধীনভাবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি।


খার্তুমের বেশ কিছু অংশে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায় এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে হামলার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

২০২১ সালে এক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। তখন থেকেই সেনাবাহিনী শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারা ‘স্বাধীন কাউন্সিলের’ নামে দেশ পরিচালনা করছে। কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো। প্রধান হলেন জেনারেল আব্দেল ফাতাহ আল-বুরহান। বিবিসির এমানুয়েল ইগুঞ্জা জানান, দেশটিতে প্রস্তাবিত বেসামরিক সরকারেকে একীভূত সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করবেন, এ নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঠিক কী নিয়ে এমন পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হলো, তা এখনও অস্পষ্ট। তবে ক্ষমতা দখল করা নিয়েই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলছে বিভিন্ন মহল।

সুদানের রাজনৈতিক দলগুলো এর আগে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু এটি সম্ভবত শেষপর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

রয়টার্সের সাংবাদিক জানিয়েছেন, কামান ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে সড়কে। সেনাবাহিনী ও আরএসএফ উভয়ের সদর দফতরের কাছে ভারী অস্ত্রের গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। এদিকে চিকিৎসকরা বলেছেন, সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে খার্তুমের আবাসিক এলাকায়, এতে বেশ কয়েকজন বেসামরিক লোক আহত হয়েছেন।

এদিকে সুদানের সরকারি বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দেশের সব ঘাঁটি ও বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। খার্তুম শহরের কৌশলগত জায়গাগুলো দখল করার জন্য ‘শত্রুপক্ষের’ মোকাবিলা করছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, আরএসএফ তাদের ঘাঁটিসহ বিভিন্ন অবস্থানে হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরেই উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুই বাহিনীর মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে যে উত্তেজনা চলছিল, তা গত বৃহস্পতিবার থেকে বিষয়টি আবারও সামনে আসতে থাকে।

এদিকে খার্তুমের পরিস্থিতিকে নাজুক অ্যাখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। বর্তমানে ভিয়েতনাম সফরে রয়েছেন তিনি। সেখানেই তিনি এ কথা বলেন। খার্তুমে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন গডফ্রে একটি টুইট বার্তায় বলেন, সামরিক অংশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি অত্যন্ত বিপজ্জনক। সংঘর্ষ বন্ধে উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতাদের জরুরিভাবে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান তিনি। একইভাবে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে রুশ দূতাবাস। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স