আন্তর্জাতিক ২৫ এপ্রিল, ২০২৩ ০৪:৫৬

আমাদের বিশ্বাসের একটিই নাম, সেটি হলো ইসলাম: এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান তার প্রধান নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বীর উদ্দেশে বলেছেন, তুরস্কে কোনো সুন্নিবাদ, আলেভিবাদ কিংবা শিয়াবাদ নামে কোনো ধর্ম নেই। আমাদের বিশ্বাসের একটিই নাম আছে, আর সেটি হলো ইসলাম।

তিনি বলেছেন, আমাদের আলেভি ভাই ও বোনদের ইসলাম ও আমাদের জাতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে উস্কানিদাতারা যে পরিকল্পনা করছে, তা করতে দেওয়া হবে না।

আগামী ১৪ মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এরদোগানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সিএইচপি নেতা কামাল কিলিকদারোগ্লু। গত বৃহস্পতিবার প্রচারিত তার এক ভিডিও বার্তার সমালোচনা করে এমন কথা বলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। অভিযোগ করা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে ধর্মীয় সম্প্রদায়কে বিতর্কের বিষয় বানানোর চেষ্টা করছেন বিরোধী জোটের প্রার্থী।

ডেইলি সাবাহ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাকারিয়া প্রদেশে এক জনসভায় এরদোগান বলেন, কেউ আমাদের আলেভি ভাই ও বোনদের কটাক্ষ করে আমাদের জাতীয় ঐক্য এবং তাদের ভবিষ্যত নস্যাৎ করার চেষ্টা করলে আমরা সেটা করতে দেব না। নির্বাচনি প্রচারাভিযানের পথে সেখানে একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিও বার্তায় কিলিকদারোগ্লু আলেভি সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেছেন, তারা বেকতাশি সুফিবাদ এবং আনাতোলিয়ান লোক সংস্কৃতির বাইরে আলাদা কোনো ধর্মের অনুসারী নয়। অথচ আলেভিরা হলো শিয়া মতালম্বী একটি সম্প্রদায়।

ভিডিও বার্তায় সিএইচপি নেতা তরুণ ভোটারদের একটি সিস্টেমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যে সিস্টেমে আলেভিদের অস্তিত্ব নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর জবাবে কিলিসদারোগ্লুকে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক পার্থক্য সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন এরদোগান। 

কিলিকদারোগ্লুকে উদ্দেশ করে তুর্কি নেতা বলেন, কেউ আপনাকে আপনার সম্প্রদায় কিংবা বিশ্বাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেনি। আপনার ধারণ করা এই পরিচয়গুলোর জন্য কেউ আপনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। তাহলে কেন হঠাৎ করে ৭৪ বছর বয়সে আপনি সাম্প্রদায়িক পরিচয় নিয়ে মানুষের সামনে হাজির হওয়ার প্রয়োজন বোধ করলেন?

এরদোগান বলেন, তুরস্কে কোনো সুন্নিবাদ, আলেভিবাদ কিংবা শিয়াবাদ নামে কোনো ধর্ম নেই। আমাদের বিশ্বাসের একটিই নাম আছে, আর সেটি হলো ইসলাম। ‘আরেকটি প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যেই কিলিকদারোগ্লুর এই প্রচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
 

 

 

আমাদের কাগজ/টিআর