আন্তর্জাতিক ১৫ জুলাই, ২০২৩ ০২:৩৫

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পথে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কয়েক ধাপে ক্ষমতা পালা বদলের পর এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা যাচ্ছে পাকিস্তানের। চলতি বছরের শেষ দিকে  পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ওই ভাষণে তিনি জানিয়েছেন, আগস্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ওই ভাষণ দেওয়ার আগে বুধবারও এ নিয়ে কথা বলেছেন শাহবাজ শরিফ। সেদিনও তিনি নিশ্চিত করেন, তাঁর সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।

তবে শাহবাজ শরিফ ক্ষমতা ছাড়ার ঘোষণা দিলেও জোটসঙ্গীরা ক্ষমতা ছাড়বেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। ফলে স্বাভাবিকভাবে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভেঙে দেওয়া হবে কি না, কিংবা শাহবাজ শরিফ প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভিকে আগাম নির্বাচনের জন্য পরামর্শ দেবেন কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়


পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের পর ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট যাত্রা শুরুর করেছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার। সেই সময় ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ (পিটিআই) তার জোটসঙ্গীদের নিয়ে সরকার গঠন করেছিল। তবে গত বছর এপ্রিলে ইমরান আস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর শাহবাজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগের (নওয়াজ) জোট ক্ষমতা গ্রহণ করে। বুধবার তিনি জানান, তাঁর সরকারের মেয়াদ শেষ হবে ১৪ আগস্ট।

 


বৃহস্পতিবার দেওয়া ভাষণে শাহবাজ শরিফ বলেন, দেশ চালানোর জন্য পবিত্র দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। দেশের  কল্যাণে কাজ করার জন্য তিনি এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের তত্ত্বাবধায়কের কাছে হস্তান্তর করব আগস্টে।’

ইমরান খানের পতনের পর ১৫ মাস ক্ষমতায় থাকলেন শাহবাজ শরিফ। তাঁর মতে, ইমরানের আমলে যে ধংসস্তূপের সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে দেশকে বের করে আনতে কাজ করেছেন। শাহবাজ বলেন, ‘পাকিস্তানের অগ্রগতির পথে যে বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল, তা আমরা পরিষ্কার করেছি। অব্যবস্থাপনার কারণে যে আগুন জ্বলে উঠেছিল, তা নিভিয়েছি।’ তিনি বলেন, তাঁর এই যাত্রা ছিল দেশকে অন্ধকার থেকে আশার আলোয় বের করার যাত্রা।

পাকিস্তান যে দেউলিয়ার পথে যাচ্ছিল, তা নিয়েও কথা বলেছেন শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, তাঁর আগের সরকারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ পেতে চুক্তি করেছিল। কিন্তু চুক্তি লঙ্ঘন করা ওই ঋণের অর্থ আসেনি। দেশকে দেউলিয়া হওয়ার পথে ঠেলে দিয়েছিল। তাঁর সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে এনেছে।

পাকিস্তানের সংবিধান অনুসারে, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন করতে হয়। এ প্রসঙ্গে বুধবার শাহবাজ শরিফ বলেন, নির্বাচন কমিশন ভোটের তারিখ ঘোষণা করবে। ওই দিন অর্থাৎ বুধবার জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছিল, আগামী অক্টোবর বা নভেম্বরে ভোট হতে পারে।

 

আমাদের কাগজ/টিআর