আন্তর্জাতিক ১৮ জুলাই, ২০২৩ ০৬:৩২

নিখোঁজ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ‘উলফ ওয়্যারিয়র (নেকড়ে যোদ্ধা)’ হিসেবে পরিচিত চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংকে তিন সপ্তাহ ধরে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না। এমনকি গুরত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকও এড়িয়ে চলছেন তিনি। এতেই পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে তার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

এর আগে সবশেষ ২৫ জুন চীন সফররত শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া ও ভিয়েতনামের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিনকে বৈঠক করতে দেখা গেছে। সম্প্রতি একজন চীনা টেলিভিশন উপস্থাপকের সঙ্গে তার বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের গুঞ্জন প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই তাকে আর দেখা যায়নি।

৫৭ বছর বয়সি চীনের এই শীর্ষ কূটনীতিক শি জিনপিংয়ের আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। শিয়ের দ্রুত প্রভাব বিস্তারের কারণেই রাজনীতির সিঁড়িতে দ্রুত উঠতে পেরেছেন কিন, এমনটাই বলে থাকে পশ্চিমা গণমাধ্যম। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চীন দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিসেবেও তাকে দেখা গেছে। শেষ পর্যন্ত গত ডিসেম্বরে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন।  

গত ২৪ দিনের অনুপস্থিতির সময় কিন গত সপ্তাহে জাকার্তায় সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস ট্রেডিং ব্লকের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকও এড়িয়ে গেছেন। সে সময় তার বদলে সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ওয়াং ই। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন ওয়াং।

সম্প্রতি বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরির সফরের সময়ও কিন গ্যাংকে দেখা যায়নি। এর বদলে ওয়াং ই কেরির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সে সময় বলেছিল, তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে সভায় যোগ দিতে পারেননি।

এ ছাড়া চলতি মাসে ইইউ প্রতিনিধি জোসেফ বোরেলের সঙ্গে কিন গ্যাংয়ের একটি নির্ধারিত বৈঠকও কোনো কারণ প্রদর্শন ছাড়াই স্থগিত করেছে বেইজিং।

তার নিখোঁজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সোমবার (১৭ জুলাই) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, তার বস কখন তার পদে ফিরে আসবেন, এর কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তবে তিনি বলেছিলেন যে চীনের কূটনৈতিক কার্যক্রম কিনের অনুপস্থিতিতেও স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত ছিল।

এ ছাড়া তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র বলেন, এ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।

এর আগে কিনের দীর্ঘতম ছুটিটি ছিল চন্দ্র নববর্ষের আট দিন।

 

সূত্র : দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট