আন্তর্জাতিক ৭ অক্টোবর, ২০২৩ ০৯:২৯

শান্তির নোবেল পেলেন ১৩ বার গ্রেপ্তার ও ৩১ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নার্গিস মোহাম্মদি 

ছবি ২০০১ সালের। নিজ বাড়ি থেকে নার্গিস মোহাম্মাদি

ছবি ২০০১ সালের। নিজ বাড়ি থেকে নার্গিস মোহাম্মাদি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বলছি এক হতভাগ্য নোবেল পুরষ্কার বিজয়ীর কথা। যিনি ১৩ বার গ্রেফতার ও ৩১ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। তার নাম নার্গিস মোহাম্মদি। তিনি একজন মানবাধিকারকর্মী ও ইরানের কারাগারে বসবাসরত এক নারী। 

প্রতিবাদী এই নারীকে নিয়ে এখন হচ্ছে ভীষণ চর্চা-আলোচনা ও সমালোচনা। (শুক্রবার) নোবেল পুরস্কারের জন্য ৫১ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মদির নাম ঘোষণা করে। যিনি ইরানে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মৃত্যুদণ্ড বন্ধের জন্য কাজ করছেন। 

নোবেল কমিটি বলেছে, ইরানে নারীদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

এই পুরস্কারের সমালোচনা করে ইরানের বার্তা সংস্থা ‘ফার্স’ বলেছে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় নার্গিস মোহাম্মদিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন পশ্চিমাদের কাছ থেকে। জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড করে তিনি একাধিকবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন।

এছাড়া তাকে নিয়ে বিনয় ও মুক্তির বার্তা জানিয়েছে, জাতিসংঘ, নোবেল কমিটির রেইস–আনদেরসেন, ইরানের মানবাধিকার সংস্থা ও তার পরিবারবর্গ। 

জানা যায়, ডিসেম্বরে আটক হয়েছিলেন নার্গিস মোহাম্মদি। এর আগেও নানা অভিযোগে কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে। 

গত বছর সেপ্টেম্বরে ইরানের নীতি পুলিশের হেফাজতে মাসা আমিনি নামের ২২ বছরের এক তরুণীর মৃত্যুর পর এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ঠিকমতো হিজাব না পরায় ওই তরুণীকে আটক করা হয়েছিল।

পুলিশ হেফাজতে মাসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলন ছিল ইরানের শাসকগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। আন্দোলন দমনে ব্যাপক নিষ্ঠুরতা চালায় ইরান সরকার। বিক্ষোভকারী নারীদের ধরে নিয়ে কারাগারে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। গত ডিসেম্বরে নার্গিস মোহাম্মদি কারাগার থেকে বিবিসিকে পাঠানো এক চিঠিতে বন্দী নারীদের ওপর হওয়া ভয়াবহ শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেন।

২০২০ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নার্গিস ইরানে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আত্মোৎসর্গের কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার মতে, বিশ্বের যেকোনো জায়গা তা ইরান বা অন্য কোনো দেশ হোক না কেন, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার অর্জনের লক্ষ্যে মানবাধিকার রক্ষার প্রচেষ্টা ও পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে নিজের মধ্যে দারুণ ভালো লাগা তৈরি হয়।’ নোবেল পুরস্কার জয়ের পরও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নার্গিস মোহাম্মদি।

জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড করে তিনি একাধিকবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। এ ছাড়া ১৫৪ বার বেত্রাঘাতের দণ্ডও দেওয়া হয়েছিল এই নারী অধিকারকর্মীকে। 

‘গুজব ছড়ানোর’ অভিযোগের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে বন্দী আছেন নার্গিস। ২০১০ সাল থেকে প্রায় অব্যাহতভাবে বন্দী থাকলেও কারাগার থেকেই তিনি নারীদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশ করে আসছেন।

আমাদেরকাগজ/(এমটি)