আন্তর্জাতিক ৯ অক্টোবর, ২০২৩ ১১:৪০

অবরুদ্ধ গাজায় দেখা দিতে পারে ‘মানবিক বিপর্যয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবরোধ আরোপের পর কর্তৃপক্ষ বলছে, পণ্য সরবরাহের অনুমতি না দিলে গাজা উপত্যকা নতুন মানবিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে চলে যাবে।

বাসিন্দারা বলছেন, শনিবার থেকে গাজা উপত্যকায় কোনো ত্রাণ পৌঁছেনি এবং সোমবার ইসরায়েল এই অঞ্চলে ‘সম্পূর্ণ অবরোধ’ ঘোষণা করেছে– তারা বলেছে বিদ্যুৎ, খাদ্য, জ্বালানি এবং পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।

গাজায় প্রায় ২৩ লাখ মানুষ বসবাস করে, যাদের ৮০ শতাংশ সাহায্যের ওপর নির্ভর করে। ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় সেখানে ৫০০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছে।

ইসরায়েল, গাজার আকাশসীমা এবং এর উপকূল নিয়ন্ত্রণ করে এবং কারা বা কী ধরনের পণ্য এর সীমানা অতিক্রম করতে পারবে তাও নিয়ন্ত্রণ করে।

মিসরও গাজার সীমান্ত দিয়ে মানুষ বা যেকোনো পণ্যের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

শনিবার সকালে হামলা শুরুর পর থেকে ইসরায়েল গাজায় খাদ্য ও ওষুধসহ সবধরনের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

অনেকেই বর্তমানে বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সেবা ছাড়াই আছেন এবং এরমধ্যে হয়তো প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানি সরবরাহও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গাজা উপত্যকার জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ সতর্ক করে বলেছে, অবশিষ্ট জ্বালানি দিয়ে হাতে গোনা কয়েক দিন মাত্র চলা যাবে।

এমনকি সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার আগেও গাজার বাসিন্দারা আগে থেকেই ব্যাপক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, চলাচলে বিধিনিষেধ এবং পানির সংকটে ভুগছিল।

সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছেন, তারা এই অঞ্চলে এখন "সম্পূর্ণ অবরোধ" আরোপ করবে।

‘না বিদ্যুৎ, না খাবার, না পানি, না গ্যাস- সব বন্ধ থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা পশুদের সাথে লড়াই করছি এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি।’

ইসরায়েলি অবকাঠামোমন্ত্রী পরে গাজায় পানি সরবরাহ অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: ‘অতীতে যা ছিল তা ভবিষ্যতে আর থাকবে না।’

এই ঘোষণার আগে এক বিবৃতিতে, ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ইসরায়েলের পদক্ষেপের কারণে হাসপাতালগুলো ওষুধ, চিকিৎসা সরবরাহ এবং জ্বালানির ঘাটতির মুখে পড়েছে।

তারা ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা’ সেইসাথে ওষুধ, জ্বালানি এবং পাওয়ার জেনারেটরের মতো জরুরি সেবা সরবরাহ করার জন্য ইসরায়েলকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, শনিবার থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ব্যাপক প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা শুরু করেছে, এতে অন্তত ৫১১ জন নিহত এবং ২৭৫০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার রাতে গাজা উপত্যকায় বড় ধরণের হামলা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরে এটাই সবচেয়ে বড় পরিসরের হামলা। সারা রাত ধরে গাজা উপত্যকাজুড়ে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

আমাদেরকাগজ/এইচএম