জাতীয় ৬ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৮:৫৩

ভোটের মাঠে প্রায় ৮ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাত পোহালেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল এবারের নির্বাচন বর্জন করেছে। সেই সঙ্গে তারা ভোটারদের কেন্দ্রে না যেতে আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার ঘটনাও ঘটছে। ফলে ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবারের নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর তা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় আট লাখ সদস্য। যা গত একাদশ সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এক লাখ ৩০ হাজার বেশি।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাত লাখ ৮২ হাজার ৮৬৩ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশ সদস্য এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৭ জন, আনসার পাঁচ লাখ ১৪ হাজার ২৮৮ জন, র‌্যাব পাঁচ হাজার ৫৬০ জন, বিজিবি ৪৪ হাজার ৯১২ জন, কোস্ট গার্ডের সদস্য দুই হাজার ৩৫৫ জন, সেনাবাহিনী সদস্য ৩৮ হাজার ১৫৪ জন, নৌবাহিনী সদস্য দুই হাজার ৮২৭ জন।

রাজধানীসহ সারাদেশে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল শুরু করেছেন। সঙ্গে আছে বিজিবি, আনসার, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌ সদস্যরা। তারা স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইসির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ছক করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, রাত থেকেই তারা কাজ শুরু করছেন। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজিবি-কোস্টগার্ড ১১ দিন, র‌্যাব-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আট দিন, সশস্ত্রবাহিনী ১০ দিন মাঠে ছিল। আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

এবার মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে নতুন প্রযুক্তিরও ব্যবহার হবে। প্রথমবারের মতো ভুয়া ও সন্দেহভাজন এবং বহিরাগত ভোটার ঠেকাতে ‘ওআইভিএস বা অনসাইট আইডেন্টিফিকেশন অ্যান্ড ভেরিফিকেশন সিস্টেমস’ নামের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। এ সম্পর্কে র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন বলেন, এক এলাকার ভোটার ব্যতীত অন্য এলাকার বহিরাগত আসতে চাইলে তাকে যেন আইডেন্টিফাই করা যায় এজন্য এই প্রযুক্তি আনা হয়েছে। আমরা এ ব্যবস্থা রেখেছি, যাতে করে বহিরাগতরা ভোট সেন্টারে প্রবেশ করতে না পারে।

র‌্যাব জানিয়েছে, নির্বাচনে তাদের সাতশর মতো মোবাইল পেট্রল কাজ করবে। সে সঙ্গে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও তাদের সাইবার পেট্রলিংয়ের কাজ চলছে বিভিন্ন ধরনের গুজব প্রতিরোধে। যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে সুইপিং টিম কাজ করছে। আরও থাকবে ডগ-স্কোয়াড, বোম স্কোয়াড। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার স্ট্যান্ডবাই থাকবে। যা দিয়ে তারা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেলে দ্রুত ছুটে যেতে পারে।

এবার নির্বাচনের দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো ছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রে একটি বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানিয়েছে, মূলত ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ ও আনসার। এছাড়া মাঠে থাকবে সেনা, নৌ ও বিজিবি সদস্যরা। তাদের পাশাপাশি র‌্যাবও থাকবে। পুলিশের সদস্যরা কিছু জায়গায় থাকবে শিফটিং ও মোবাইল পেট্রোলিংয়ের দায়িত্বে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এক জেলার পুলিশকে অন্য জেলায়ও পাঠানো হয়েছে। ভোটের আগের দিন ও ভোটের দিন থানার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড অনেকটা স্থবির থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


সারাদেশে পুলিশ সদস্য রয়েছেন দুই লাখ ১২ হাজার। এর মধ্যে এক লাখ ৭৪ হাজার জনকে এবার মাঠে নামানো হচ্ছে। তাদের সহায়তার জন্য মাঠে থাকবেন দুই হাজারের বেশি ম্যাজিস্ট্রেট।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, রাজধানীসহ সারাদেশে বাহিনীর এক হাজার ১৫১ প্লাটুনের ৪৬ হাজার ৮৭৬ সদস্য মাঠে নেমেছেন। ভোট ঘিরে ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১৩ দিন পুলিশ, র‌্যাব, সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে মাঠে থাকবেন তারা।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশের নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবি টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন।

মোতায়েনকৃত সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনী কাজে অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের পরামর্শে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বেসামরিক প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করবে।

আমাদেরকাগজ / এইচকে