আন্তর্জাতিক ২৭ মার্চ, ২০২৪ ১০:১৭

গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা প্রায় ছয় মাস ধরে চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। বর্বর এই আগ্রাসনের জেরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ।


এই অবস্থায় ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় গণহত্যা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ। একইসঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ মঙ্গলবার বৈশ্বিক এই সংস্থার মানবাধিকার কাউন্সিলকে বলেছেন- তিনি বিশ্বাস করেন, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান গণহত্যার সমান এবং এই কারণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞাসহ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইসরায়েল অবশ্য জাতিসংঘের এই অধিবেশনে যোগ দেয়নি এবং গাজায় আগ্রাসন পরিচালনাকারী এই দেশটি জাতিসংঘের ওই বিশেষজ্ঞের ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করেছে।


ইসরায়েলকে গণহত্যায় অভিযুক্ত করা জাতিসংঘের ওই বিশেষজ্ঞের নাম ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চলে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ এই র‌্যাপোর্টার মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘের অধিকার সংস্থার কাছে ‘দ্য অ্যানাটমি অব এ জেনোসাইড’ নামে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেন, ‘মানবতার সবচেয়ে খারাপ অবস্থার বিষয়ে রিপোর্ট করা এবং প্রাপ্ত ফলাফলগুলো উপস্থাপন করা আমার দায়িত্ব। গাজায় একটি গোষ্ঠী হিসাবে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অপরাধের সীমা পূরণ করা হয়েছে বলে আমি দেখতে পেয়েছি এবং এটি বিশ্বাস করারও যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।’

তিনি বলেন, অন্যান্য ক্রিয়াকলাপের মধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলার জন্য অনুরোধ করছি, যা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে শুরু হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করবে।’

নাৎসি হলোকাস্টে ইহুদিদের গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রণীত ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশনে গণহত্যাকে ‘একটি জাতীয়, জাতিগত, জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত কাজ’ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

এদিকে জেনেভায় ইসরায়েলের কূটনৈতিক মিশন বলেছে, গণহত্যা শব্দের ব্যবহার ‘আপত্তিকর’। তাদের দাবি, ইসরায়েল এই যুদ্ধটি হামাসের বিরুদ্ধে করছে, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে নয়। যখন হামাস যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে, তখন ইসরায়েলে ১২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫৩ জনকে বন্দি করা হয়েছিল।

ইসরায়েলি এই কূটনৈতিক মিশন আরও বলেছে, ‘সত্য খোঁজার পরিবর্তে, জাতিসংঘের বিশেষ এই র‌্যাপোর্টার তার বিকৃত এবং অশ্লীল বাস্তবতার বিপরীতে দুর্বল যুক্তিগুলো দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।’

অবশ্য কাতারের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো, সেইসাথে আলজেরিয়া এবং মৌরিতানিয়াসহ আফ্রিকান দেশগুলোও ফ্রান্সেসকা আলবেনিজের অনুসন্ধানের বিষয়ে সমর্থনের পাশাপাশি গাজার মানবিক পরিস্থিতির বিষয়ে যে উদ্বেগ জানানো হয়েছে, সেটির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে।

এছাড়া ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখানে আসন খালি রাখা হয়েছিল। ওয়াশিংটন এর আগে জাতিসংঘের এই কাউন্সিলের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েল-বিরোধী পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছিল।