অর্থ ও বাণিজ্য ১১ মে, ২০২৪ ০১:৪৪

গরমের অজুহাত, ডিম-মুরগির বাজারে আগুন 

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দাবদাহের কারণ দেখিয়ে ডিম ও মুরগির বাজারে ফের কারসাজির আশ্রয় নিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। অবৈধ মজুত করে তারা বাজার অস্থির করছে। সরবরাহ কমিয়ে বাড়িয়েছে দাম। পরিস্থিতি এমন খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম কিনতে ক্রেতার সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে; যা সাত দিন আগেও ১২০-১২৫ টাকা ছিল। এছাড়া প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি কিনতে ক্রেতার ২২০ ও সোনালি মুরগি ৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দেশি জাতের মুগরির দাম ৭০০ টাকায় ঠেকেছে। পাশাপাশি সার্বিক চাহিদা না থাকলেও বাড়তি দরেই বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস। এছাড়া বাজারে মাছের বাড়তি মূল্যে নাকাল হচ্ছেন ভোক্তা।

শুক্রবার বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুচরা বাজারে ফার্মের বাদামি ডিম প্রতি ডজন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে; যা সাত দিন আগে ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সাদা ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৪০ টাকা; যা সাত দিন আগে ১১০-১২০ টাকা ছিল। সেক্ষেত্রে গত সাত দিনে ডজনপ্রতি বাদামি ও সাদা ডিমের দাম বেড়েছে ২০-২৫ টাকা।

বাংলাদেশ এগ প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, সম্প্রতি তীব্র গরমে খামারে মুরগি মারা গেছে। ব্যাহত হয়েছে ডিম উৎপাদন। এতে রাজধানীসহ সারা দেশে ডিমের সরবরাহ কমেছে। কিন্তু বেড়েছে চাহিদা। যে কারণে দাম বেড়েছে। তবে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, রাজধানীর তেজগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন আড়ত মালিকরা ডিমের দাম নির্ধারণ করেন। হুট করে তারা দাম কমিয়ে দিয়ে খামারিদের থেকে ডিম নিয়ে হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। এরপর সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে মুনাফা করেন। এবারও অবৈধ মজুত করে সরবরাহ কমিয়ে ডিমের দাম বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে ডিমের বাজার অস্থিরতার পেছনে অবৈধ মজুতের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিবার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকি টিম। বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী নরসিংদী সদর উপজেলার এম.ই.এস. স্পেশালাইজড কোল্ডস্টোরেজে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের নরসিংদী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদুর রহমান। অভিযানকালে দেখা যায়, কোল্ডস্টোরেজে বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা প্রায় ১৪ লাখ পিসের অধিক ডিম মজুত রেখেছেন। যা প্রায় এক মাস আগে কোল্ডস্টোরেজে এ মজুত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের ডিম মজুত কার্যক্রম বাজার অস্থির করার পাঁয়তারা বলে ধারণা করা হয়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি শুক্রবার ২২০ টাকা বিক্রি হলেও সাত দিন আগে ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়। এদিন প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয় ৪০০ টাকা; যা সাত দিন আগে ৩৫০ টাকা ছিল। এদিন (শুক্রবার) দেশি মুরগি বিক্রি হয় ৬৫০-৭০০ টাকা। এছাড়া প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হয় ৭৮০ টাকা। খাসির মাংস বিক্রি হয় ৯০০-১১০০ টাকা।

রাজধানীর নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন, বাজারে যে কী শুরু হয়েছে, তা কিছুতেই বুঝতে পারছি না। বিক্রেতারা একেক সময় একেক পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাসাধারণকে নাজেহাল করে তুলছে। সময়-সুযোগ বুঝে ক্রেতার পকেট কাটছে। এবার মুরগি ও ডিমের দাম বাড়িয়ে বাজারে ফের অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ডিম ও মুরগির দাম বাড়ার কারণ জানতে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে ডিমের বাজার অস্থিরতার পেছনে অবৈধভাবে মজুতের তথ্য পাওয়া গেছে। তদারকির মাধ্যমে তা সমাধান করা হচ্ছে। রাজধানীর বড় ডিমের আড়তেও অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি মুরগির বাজারেও কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।

আমাদের কাগজ/টিআর