খেলাধুলা ২১ জুন, ২০২৪ ১১:৫২

বৃষ্টি আইনে অজিদের কাছে বাংলাদেশের হার

স্পোর্টস ডেস্ক : সংক্ষিপ্ত স্কোর:অস্ট্রেলিয়া ১১.২ ওভারে ১০০/২ (ওয়ার্নার ৫৩*, ম্যাক্সওয়েল ১৪*; হেড ৩১, মার্শ ১)

ফল: বৃষ্টি আইনে অস্ট্রেলিয়া ২৮ রানে জয়ী।

বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১৪০/৮ ( তাসকিন ১৩*, তানজিম ৪*; তানজিদ ০, লিটন ১৬, রিশাদ ২, শান্ত ৪১, সাকিব ৮, মাহমুদউল্লাহ ২,মেহেদী ০, হৃদয় ৪০)

সুপার এইটে হার দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে বৃষ্টি আইনে ২৮ রানে হেরেছে তারা।  

কয়েক দফা বৃষ্টি হানা দিয়েছে নর্থসাউন্ডে। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়ায় ১১.১ ওভারের সময় বৃষ্টি নামলে ম্যাচ শুরু করা যায়নি। কিন্তু ততক্ষণে ডিএলএসের পার স্কোরের চেয়ে ২৮ রানে এগিয়ে ছিল অজি দল। 

১৪১ রানের লক্ষ্যে কখনো মনে হয়নি এই লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়া ছুঁতে পারবে না। শুরুর ঝড়ো জুটিতেই বাংলাদেশের ওপর চড়াও হন ট্রাভিস হেড ও ডেভিড ওয়ার্নার। পাওয়ার প্লেতেই ৫৯ রান যোগ করেন তারা। সপ্তম ওভারে বৃষ্টি নামলে এক দফা বন্ধ থাকে খেলা। তার পর খেলা শুরু হলে পর পর ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শের উইকেট তুলে মোমেন্টামে বদল আনার চেষ্টা করেছিলেন রিশাদ হোসেন। কিন্তু ৫  রানে জীবন পাওয়া ডেভিড ওয়ার্নার ম্যাচটা নিজেদের করে নিতে বিস্ফোরক ব্যাটিংটা করে গেছেন। ফলে কোনওভাবেই তাদের পেছনে ফেলা যায়নি। দুবারই পার স্কোরের চেয়ে দলটা অনেক এগিয়ে ছিল। ওয়ার্নার ৩৫ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থেকেছেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছয়ের মার। ম্যাক্সওয়েল ৬ বলে ১ চার ১ ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ১৪ রানে। রিশাদ ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নিয়েছেন দুটি উইকেট।   

৩৪ বলে ওয়ার্নারের ফিফটির পর আবার বৃষ্টি  

রিশাদের আঘাতে দ্রুত দুই উইকেট পড়লেও মোমেন্টাম হাতছাড়া হতে দেননি ওয়ার্নার। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৪ বলে ফিফটি তুলে নিয়েছেন। তাতে দলও স্কোর ছাড়িয়েছে একশ। সঙ্গী গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও কম ছিলেন না। ওয়ার্নারের ফিফটির পর ১১,২ ওভারে আবার নামে বৃষ্টি। তাতে খেলা বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে বৃষ্টি আইনে অস্ট্রেলিয়া ২৮ রানে এগিয়ে রয়েছে। ডিএলএসে পার স্কোর হচ্ছে ৭২।

বৃষ্টি বিরতির পর রিশাদের আঘাতে পড়লো দুই উইকেট

ওপেনিং জুটি ভাঙার পর কাঙ্ক্ষিতটা চাপটা তৈরি করতে পেরেছেন রিশাদ হোসেন। দ্রুত দ্বিতীয় উইকেটও তুলে নিয়েছেন তিনি। নতুন নামা অধিনায়ক মিচেল মার্শকে টিকতেই দেননি তিনি। মার্শ রিশাদ এলবিডাব্লিউ করিয়েছেন। অজি তারকা রিভিউ নিয়েও সফল হননি। তাতে ১ রানে ফিরেছেন তিনি। 

বৃষ্টি বিরতির পর রিশাদের আঘাত

বৃষ্টি বিরতির পর মাঠে গড়িয়েছে খেলা। অসম্পূর্ণ সপ্তম ওভার করতে নেমেই পঞ্চম বলে ওপেনার হেডকে বোল্ড করেছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তাতে ভেঙেছে ৬৫ রানের ঝড়ো জুটি। অজি ওপেনার ২১ বলে ৩১ রানে ফিরেছেন। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়।  

পাওয়ার প্লেতে অস্ট্রেলিয়ার ৫৯ রানের পর বৃষ্টিতে বন্ধ খেলা

৫ রানে ওয়ার্নারকে ফেরানোর সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেই ওয়ার্নারই এখন বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ট্রাভিস হেডও। তাতে পাওয়ার প্লেতেই বাংলাদেশের ওপর চড়াও হয়ে খেলেছেন দুই অজি ওপেনার। ৬ ওভারে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বিনা উইকেটে ৫৯ রান তুলেছেন তারা। সপ্তম ওভারে দ্বিতীয় বলে ওয়ার্নার চার মারার পর ৬৪ রানে বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা।

ওয়ার্নারকে জীবন দিয়ে শুরু বাংলাদেশের

তানজিম সাকিবের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই সুযোগ দিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। কিন্তু তার ক্যাচ নিতে পারেননি হৃদয়। তখন অজি ওপেনার ৫ রানে ব্যাট করছিলেন।

অস্ট্রেলিয়াকে ১৪১ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ

টস হেরে ব্যাট করে প্রত্যাশা মতো ব্যাটিংটা করতে পারেনি বাংলাদেশ। নর্থ সাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮ উইকেটে ১৪০ রানে থেমেছে তারা।

শুরুতে তানজিদের বিদায়ের পর ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দেয় লিটন-শান্ত জুটি। শান্তর ব্যাটে এই জুটিই দলকে দিশা দেখিয়েছে। লিটনের বিদায়ে ৫৮ রানের জুটিটি ভাঙে। তার পরও শান্ত তার লক্ষ্যে ছিলেন অবিচল। মাঝে রিশাদ ব্যর্থ হলে শান্তও ফিরে যান কাছাকাছি সময়। অধিনায়ক ৩৬ বলে ৪১ রানে ফিরেছেন। তার পরই মূলত ঘটে ছন্দপতন। নিয়মিত বিরতিতে সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদীর উইকেট হারালে শেষটায় চাপে পড়ে লাল-সবুজ দল। শুধু তাওহীদ হৃদয় তখন রানের চাকা সচল রেখেছেন। তার ২৮ বলে দ্রুত গতির ৪০ রানে ভর করেই এগিয়েছে দলের স্কোর। যদিও শেষ ওভারের প্রথম বলে তাকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে হ্যাটট্রিকের দেখা পান কামিন্স। তাতে ৮ উইকেটে ১৪০ রানে থেমেছে বাংলাদেশ। 

২৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার কামিন্স। ২৪ রানে দুটি নেন অ্যাডাম জাম্পা। একটি করে নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক, মার্কস স্টয়নিস ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

হৃদয়কে ফিরিয়ে কামিন্সের হ্যাটট্রিক

১৮তম ওভারেই শেষ দুই বলে মাহমুদউল্লাহ-মেহেদীর উইকেট নেন কামিন্স। ২০তম ওভারে হৃদয়কে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকও করেন তিনি। তাতে দারুণ খেলতে থাকা হৃদয়কে থামতে হয় ৪০ রানে। তার ২৮ বলের ইনিংসে ছিল ২ চার ও ২ ছক্কা। অথচ এই হৃদয়ের ব্যাটেই শেষটায় রান তুলছিল বাংলাদেশ। 

দুই বলে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ-মেহেদী

সাকিব আউট হলে শেষ মুহূর্তে রান বাড়িয়ে নেওয়ার মুহূর্তে তাওহীদ নিজের কাজটা ঠিকই করেছেন। কিন্তু অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ব্যর্থ হয়েছেন এদিন। প্যাট কামিন্সের বল পুল করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় কানায় লেগে বোল্ড হয়েছেন। ফিরেছেন ২ রানে। একই ওভারে নতুন ব্যাটার শেখ মেহেদীকেও তালুবন্দি করালে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

৮ রানে ফিরলেন সাকিব

দ্রুত সময়ে ২ উইকেট হারিয়ে ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের। অধিনায়ক শান্তও ফিরলে ৮৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সৃষ্টি হয় চাপ। সেই চাপে পড়ে যাওয়া মুহূর্তে দলকে উদ্ধার করতে পারেননি সাকিব আল হাসান। স্টয়নিসের বল উঠিয়ে দিয়ে ৮ রানে ক্যাচ আউট হয়েছেন। তাতে ১০৩ রানে পড়ে পঞ্চম উইকেট।  

শান্তকে থামালেন জাম্পা

বিশ্বকাপে অবশেষে ছন্দে ফিরে আগ্রাসী ব্যাটিংটা করছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ব্যাটেই ইনিংসটা দিশা পেয়েছে। কিন্তু ১৩তম ওভারে অ্যাডাম জাম্পার ঘূর্ণিতে কাটা পড়েছেন তিনি। সুইপ করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন। তাতে ৩৬ বলে ৪১ রানে থেমেছেন শান্ত। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছয়ের মার।  

রিশাদকে ফেরালেন ম্যাক্সওয়েল

লিটনের বিদায়ের পর ব্যাটিং অর্ডারে আজ ওপরে প্রমোশন পেয়ে ৪ নম্বরে নেমেছিলেন রিশাদ হোসেন। তাও আবার প্রথমবার। কিন্তু তাকে টিকতে দেননি ম্যাক্সওয়েল। একটু এগিয়ে এসে আগ্রাসী শট খেলার চেষ্টায় ছিলেন রিশাদ। বল ব্যাটের কোনায় লেগে তা জমা পড়ে জাম্পার হাতে। তাতে ৪ বলে ২ রানে ফিরেছেন তিনি।  

লিটনের বিদায়ে ভাঙলো ৫৮ রানের জুটি

শুরুর ধাক্কার পর প্রতিরোধ গড়ে খেলছিলেন শান্ত-লিটন দাস। এই জুটিতে স্কোরের পাশাপাশি পঞ্চাশ ছাড়ায় জুটি। অস্ট্রেলিয়াও জুটি ভাঙতে মরিয়া হয়ে ওঠে। নবম ওভারে ৫৮ রানের এই জুটি ভাঙে লিটন দাসের বিদায়ে। লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার বলে সুইপ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকমতো সংযোগ ঘটাতে পারেননি। লাইন মিস করায় বোল্ড হয়েছেন। তাতে ২৫ বলে ১৬ রানে থেমেছেন লিটন। ইনিংসে ছিল ২টি চার।  

শান্ত-লিটনের জুটিতে স্কোর পঞ্চাশ ছাড়ালো

তানজিদ তামিমের আউটের পর সতর্ক ব্যাটিং করেছেন আরেক ওপেনার লিটন দাস। তবে নামার পর থেকেই আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সঙ্গী লিটন ধীরে ধীরে হাত খোলার চেষ্টা করেছেন। তাতে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ৩৯ রান যোগ করেছে বাংলাদেশ। অষ্টম ওভারে দলের স্কোরের পাশাপাশি পঞ্চাশ ছাড়ায় তাদের জুটি।

শুরুতেই ফিরলেন ওপেনার তানজিদ 

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। বরাবরের মতো ব্যর্থ ওপেনার তানজিদ তামিম। মিচেল স্টার্কের ফুলার লেংথের গতিময় বলে বোল্ড হয়েছেন ওপেনার। তাতে রানের খাতা না খুলেই ফিরেছেন তানজিদ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট মিশন শুরু আজ। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে অবশ্য বৃষ্টি হানা দিয়েছে। তাতে অ্যান্টিগায় টসটাও হয়েছে একটু দেরিতে। বৃষ্টি যদিও অতটা জোরালো ছিল না। বৃষ্টি থামলে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে মিচেল মার্শের দল।  বৃষ্টিতে টস হতে দেরি হলেও ম্যাচ যথা সময়ে অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হচ্ছে।

নাজমুল হোসেন শান্তদের সুপার এইট মিশন শুরুর আগে আলোচনায় মিরপুরের সেই স্মৃতি। ২০২১ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল ম্যাথু ওয়েডের দল। ওই চারটি জয়ই বাংলাদেশের সুখস্মৃতি। এর আগে-পরে মিলিয়ে আরও ৫টি ম্যাচ খেললেও সবগুলোতে হেরেছে বাংলাদেশ। উইকেট দেখে মিচেল মার্শ বলেছেন, তার কাছে সেটা স্বাভাবিক উইকেটই মনে হয়েছে। তেমন কোনও পরিবর্তন হয়তো হবে না।

একাদশে কারা

বাংলাদেশ একটি পরিবর্তন এনেছে। জাকের আলীর জায়গায় স্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান একাদশে ঢুকেছেন। অজি দলেও পরিবর্তন দুটি। ফিরেছেন পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড। বাদ পড়েছেন অ্যাশটন অ্যাগার ও নাথান এলিস।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তাওহীদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান, তানজিম হাসান, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ডেভিড ওয়ার্নার, ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, টিম ডেভিড, ম্যাথু ওয়েড (উইকেটকিপার), প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, অ্যাডাম জাম্পা, জশ হ্যাজলউড।

আমাদের কাগজ/টিআর