বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০৪:৫২

ফেসবুক যখন পরোক্ষভাবে মিয়ানমার গণহত্যায় জড়িত!

প্রযুক্তি ডেস্ক।।

হঠাৎ কেউ যদি আপনাকে জিজ্ঞাসা করে বসে, গত এক দশকে গোটা বিশ্বের কোন খাতে সবচেয়ে বেশি উন্নতি ঘটেছে, তাহলে আপনার উত্তরটি নিঃসন্দেহে হবে প্রযুক্তি। পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশগুলো তো বটেই, এমনকি তৃতীয় বিশ্বের সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলোও কোনো না কোনোভাবে প্রযুক্তির আশীর্বাদধন্য হয়েছে। কিন্তু তাই বলে এ কথা কখনোই বলা যাবে না যে প্রযুক্তির প্রভাব সবসময় ইতিবাচকই থেকেছে।

বরং গত এক দশকে বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়ার মতো বেশ কিছু স্ক্যান্ডালেরও জন্ম দিয়েছে প্রযুক্তি শিল্প, আর সেখানে বাদ যায়নি ফেসবুকের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টেক জায়ান্ট। আত্মহত্যা, গণহত্যা, যৌন হয়রানি, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো বিচিত্র সব প্রাযুক্তিক স্ক্যান্ডাল হয়েছে পত্রিকার শিরোনাম। চলুন পাঠক, পেছন ফিরে দেখা যাক প্রযুক্তি জগতে গত এক দশকে ঘটে যাওয়া এমনই কিছু উল্লেখযোগ্য স্ক্যান্ডাল।

২০১৭ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর চলে নির্মম গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ, যার পরিপ্রেক্ষিতে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা চলে আসতে থাকে বাংলাদেশে। সেই থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কটে জর্জরিত এ দেশ। কিন্তু এজন্য দায়ী কে বা কারা?

জাতিসংঘের তদন্তকারী দল এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পেয়েছে ফেসবুকের সম্পৃক্ততা। তাদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনে পালন করেছিল 'নির্ণায়ক ভূমিকা'। কারণ এই ফেসবুক থেকেই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে, এবং রোহিঙ্গাদের সংঘবদ্ধ হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

যেমন ফেসবুকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন আং লিয়ানের দুইটি অ্যাকাউন্ট ছিল। একটিতে তার অনুসারী ছিল ১৩ লাখ, অন্যটিতে ২৮ লাখ। এই দুইটি অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি প্রায়ই রোহিঙ্গাবিরোধী পোস্ট দিতেন। যেমন একটি পোস্টে তিনি রোহিঙ্গাদের 'বাঙালি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন যে রোহিঙ্গা শব্দটিই নাকি বানানো।

দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের উগ্র জাতীয়তাবাদী, সকলেই ফেসবুকে সরব ছিল রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে। এভাবে ফেসবুকের গণ-অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে একটি গোটা জাতিকে তারা উৎখাত করতে পেরেছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষও শেষ পর্যন্ত দায় স্বীকার করেছে যে তাদের প্ল্যাটফর্মটিকেই মিয়ানমারে জাতিগত ঘৃণা ও সহিংসতা বিস্তারে ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু তারা এটি বন্ধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।